২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।শনিবার

নজরুল মেম্বারের বিরোদ্ধে নানান অনিয়মের অভিযোগ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ইমরান হাসান বুলবুল,ত্রিশাল(ময়মনস­িংহ)প্রতিনিধিঃ

 

ময়মনসিংহের ত্রিশালে অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের জন্য ৪০ দিনের কর্মসূচিতে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

 

উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নে এসব কর্মসূচিতে অনেক দরিদ্র ব্যক্তির নাম থাকলেও টাকা পাননি। অল্প কয়েকজন টাকা পেলেও পুরো টাকা পাননি অনেকে। বেশির ভাগ টাকাই ভুয়া ব্যক্তিকে উপকারভোগী সাজিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। দরিদ্রদের দিয়ে কাজ করানোর কথা থাকলেও ৪নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম তার ছেলেসহ নিজের পছন্দ অনুযায়ী দিয়েছেন অনেকের নাম।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ,উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড আমলীতলা বাজার থেকে জব্বার মাস্টারের বাড়ী পর্যন্ত ৩৬ জন লেবার দিয়ে রাস্তার কাজ করার কথা থাকলেও হয়নি কোন কাজ।স্থানীয়রা জানেইনা এ রাস্তার কাজ এসেছে। অথচ জুলাই মাসে কাজ দেখিয়ে তুলে নিয়েছেন বিল। ঐকাজে ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম লেবারের তালিকায় তার ছেলে আব্দুল মতিনের নাম দিয়েছেন তারও প্রমান মেলে। ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম তার সাথে চলাফেরা করেন এমন বৃত্তবান লোকের নাম ব্যবহার করেছেন এ তালিকায়। নজরুল ইসলাম কয়েকজন শ্রমিকের নাম ব্যবহার করলেও তাদের দিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে কিছু টাকা তাদের দিয়ে বাকী টাকা ভরেছেন নিজের পকেটে। রাস্তায় একমুঠো মাটিও ফেলা হয়নাই।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মঠবাড়ী ইউনিয়নের অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের জন্য সরকার ৪০ দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করে। এ জন্য রাস্তায় মাটি কাটার জন্য প্রকল্প নেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অতিদরিদ্রদের বাছাই করে কাজ বাবদ প্রতিদিন ২০০/২৫০ টাকা হিসেবে একেকজনের আট থেকে দশ হাজার টাকা পাওয়ার কথা। কিন্তু ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য নজরুল ইসলাম এমন অনেকের নাম ব্যবহার করেছেন তারা নিজেরাই জানে না তাদের নাম আছে। এ কর্মসূচির লেবারের তালিকায় তার নিজের ছেলের নামও দিয়েছেন। এলাকার সচ্ছল ও বৃত্তবানদের নামও ব্যবহার করা হয়েছে। খোজ নিয়ে জানাযায় তারা পোল্ট্রি ও ফিসারীর মালিক।

 

মঠবাড়ী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ আবুল বাশার অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের জন্য ৪০ দিনের কর্মসূচিতে নানা অনিয়মের অভিযোগ লিখিত ভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করা হলেও তার কোন সঠিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। অভিযোগ পত্রে দেখা যায়, মঠবাড়ী ইউনিয়নে এ কর্মসূচীর নানা অনিয়ম হয়েছে। চেয়ারম্যান, মেম্বার লেবারের তালিকায় তাদের ছেলে, বউ, আতœীয় স্বজনের নাম ব্যবহার করেছেন। রাস্তার কাজ না করে তুলে নিয়েছে বিল । রাস্তার কাজ না হওয়ায় জনগনকে চরম দূর্ভোগ পুহাতে হচ্ছে।

 

৪ নং ওয়ার্ড সদস্য নজরুল ইসলাম জানান,এ রাস্তার কাজ দিয়ে অন্য কয়েকটি রাস্তার কাজসহ এর বাজেট দিয়ে অন্য ভাঙ্গা রাস্তা সংস্কার ও অন্য অন্য কাজ করেছি। প্রকল্প দেখতে লোক লাগে তাই আমার ছেলের নাম দিয়েছি। তাকে প্রশ্ন করা হলে এলাকার বৃত্তবানদের নাম দেয়া হয়েছে কেন? তিনি উত্তরে বলেন,কিছু আভ্যন্তরিন বিষয় আছে তাই তাদের নাম দেয়া হয়েছে।

 

স্থানীয় মঠবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কদ্দুস মন্ডল জানান, আমার জানামতে মেম্বার রাস্তার কাজ করেছেন, আমাকে ছবি দেখিয়েছেন। মেম্বার সাহেবরা লেবারের তালিকা দিয়ে থাকেন কার নাম দিয়েছেন তা আমার জানা নাই। আর টাকা তুলতে গেলে প্রকল্পের রাস্তার কাজের ছবি দেখিয়ে, বিল নিতে হয়। আমি মেম্বারের সাথে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, এ বিষয়ে আমি অবগত নই। আমি এ বিষয়ে তদন্ত করে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহন করবো। তারা তাহলে শ্রমিকের বিল তুলে নিল কিভাবে? প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, অফিসে আইসেন কথা বলবো।

 

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি