২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।শনিবার

নওগাঁর মান্দায় আখের বাম্পার ফলন।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ওয়াশিম রাজু , নওগাঁ :

 

নওগাঁর মান্দায় এবার আখ চাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে। অল্প বিনিয়োগে অধিক লাভজনক হওয়ায় কৃষি অফিসের সহযোগিতায় কৃষক দিন দিন আখ চাষে ঝুঁকছেন। কেউ পাইকারি বাজারে কেউ বা নিজেই খুচরা বিক্রি করে চলছে চাষিদের সংসার। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, সারিসারি লাল-কালো-সবুজের চোখ ধাঁধানো আখের জমি। এবার বন্যার পানি না আসায় বাতাসে দোল দিচ্ছে লম্বা সবুজ পাতায় চাষির ভাগ্য বদলের স্বপ্ন। বর্তমান চাষীদের পাশাপাশি নতুনরাও আখ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এ উপজেলার মাটি এঁটেল দো-আঁশ হওয়ায় এখানে আখ চাষে গত কয়েক বছরে বেশ সফলতা পেয়েছেন চাষীরা।

 

 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থ বছরে উপজেলায় ৯০ হেক্টর জমিতে মিশ্রি দানা,লতা,ঈশ্বরদী-১৬ ,আচাফারর্ম, বোম্বাইসহ বিভিন্ন জাতের আখের চাষ হয়েছে। তবে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে আগাম বন্যায় আখ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এবার কৃষি বিভাগের পরামর্শে আখ চাষের পরিমাণ বেশি হয়েছে। আখ চাষে সার ও কীটনাশক তেমন ব্যবহার করতে হয় না। তবে তিনবার সেচের প্রয়োজন পড়ে। কম পরিশ্রমে ও অল্প ব্যয়ে বেশি সফলতা পাওয়ায় এখানে কৃষকরা আখ চাষে বেশ আগ্রহী হচ্ছেন৷

 

উপজেলার চকভোলাই গ্রামের কৃষক আজাহার প্রামানিক বলেন,গত বছর আগাম বন্যায় আখ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। গতবার লোকসান হলেও এবার আখের বাম্পার ফলন হয়েছে তার। ২৫ কাটা জমিতে আখ চাষ করতে খরচ হয়েছে ২০/২৫ হাজার টাকা৷ সেখান থেকে তিনি এক লক্ষ টাকার আখ বিক্রয় করবেন বলে আশা করেন৷

 

আর এক কৃষক কাজেম উদ্দিন জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আখের ফলন ভালো। করোনাভাইরাসে লকডাউনে সব কিছু লোকসানের দিকে গেলেও আখ সহজে পচে নষ্ট হয় না। ফলে এবার আখ চাষ করে লাভের মুখ দেখতে পাবো। পরিবারের আর্থিক চাহিদা মিটিয়ে ভালোভাবে সংসার চালাতে পারবে বলেও জানান তিনি।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শায়লা শারমিন জানান, এই উপজেলার মাটির গুণগত মান ভালো। তাই সময়মতো আখ রোপণ করতে পারলে ফলনও ভালো হয়। বর্তমানে ধান ও অন্যান্য শাক-সবজির তুলনায় আখ চাষে খরচ কম তাই আবারো আখ চাষের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে চাষীরা৷

তিনি আরো বলেন ,আখ খুব লাভজনক এবং এবার ফলন খুবই ভালো হয়েছে। আবহাওয়া বুঝে লাল পচা এবং মাঝরা পোকা রোগ ছাড়া তেমন কোনো জটিল রোগ নেই। উপজেলার আখ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি। চাষিদের জন্য সকল প্রকার পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত আছে।#

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি