২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।শনিবার

ধুনটে গৃহবধু ও ভিক্ষুকের লাশ উদ্ধারঃ আটক ১ ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

জিল্লুর রহমান, ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ

বগুড়ার ধুনটে স্বপ্না খাতুন নামের এক গৃহ বধুর ও মনছের আলী নামের এক মানসিক ভারমাস্যহীন ভিক্ষুকের লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।

 

থানা সুত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে ধুনট সদর ইউনিয়নের চালাপাড়া পুর্বপাড়া গ্রামের মুদি দোকানী বাহেজ আলী তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন (৪০) কে শুক্রবার গভীর রাতে মারধর করে। এক পর্যায়ে স্বপ্না খাতুন জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। বাহেজ আলী তার স্ত্রীকে শনিবার ভোর ৫ টার দিকে ধুনট হাসপাতালের নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ স্বপ্নার লাশ উদ্ধার করে ও স্বামী বাহেজ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে

 

অপর দিকে একই দিন সকাল ৭টার দিকে ধুনট পৌর এলাকার খাদ্য গুদামের দক্ষিন পাশের এক পরিত্যক্ত পুকুরে একটি ভাসমান লাশ দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। পরে উপজেলার নলডাঙ্গা গ্রামের মর্জিনা খাতুন এসে লাশ দেখে শনাক্ত করে যে এটি তার বাবা মানসিক ভারসাম্যহীন ভিক্ষুক মুনছের আলী (৭০)।

 

মর্জিনা জানান, তারা মা মারা যাওয়ার পর বাবা মনছের আলী তার বাড়িতেই থাকতো। সে মানষিক ভারসাম্য হীন হয়ে মাঝে মাঝে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করতো। তাকে কঠোর নজর দারির মধ্যে রাখার পরেও গত ২৯ সেপ্টেম্বর উধাও হয়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ খুজি করে তাকে পাওয়া যায় নি। এঘটনায় বগুড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রশিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

 

ধুনট থানার ওসি (তদন্ত) জাহিদুল ইসলাম গৃহবধু ও বৃদ্ধ ভিক্ষকের লাশ উদ্ধার করার কথা স্বীকার করে বলেন, গৃহ বধু স্বপ্না খাতুন তার স্বামীর নির্যাতনে মারা গেছে। কারন সুরতহাল রির্পোট তৈরী করার সময় ওই গৃহবধুর শরীরে বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী বাহেজ আলীকে আটক করা হয়েছে এবং বৃদ্ধ মনছের আলীর পরিবারের কোন অভিযোগ নাই। তবে ওই দুটি লাশের ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রেরন করা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি