২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৬ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।বৃহস্পতিবার

দীর্ঘবিরতির পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ায় গাইবান্ধায় চলছে উৎসবের আমেজ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রাকিবুল ইসলাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ

করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে টানা ১৭ মাস ২৬ দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর রবিবার গাইবান্ধার সব স্কুল ও কলেজ খুলেছে। এ কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চলছে উৎসবের আমেজ। ইউনিফর্ম পড়ে, কাঁধে বই-খাতার ব্যাগ ঝুলিয়ে সারি সারি শিক্ষার্থীরা আবারো ফিরেছে তাদের প্রিয় ক্যাম্পাসে। শিক্ষার্থীদের কলরবে মুখরিত হয়ে উঠেছে প্রিয় শিক্ষাপ্রাঙ্গন। করোনার ভয়াল থাবার মধ্যেই চিরচেনা রূপে ফিরেছে স্কুল ও কলেজগুলো। প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরতে পেরে খুশি শিক্ষার্থীরা। প্রিয় শিক্ষক-প্রিয় বন্ধু-সহপাঠীদের পেয়ে কিছুতেই থামছে না আনন্দের উচ্ছাস। অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা নতুন ভর্তি হয়েছে, তাদের জন্য আজই হবে স্কুল-কলেজের প্রথম দিন।

 

এবিষয়ে আহম্মদ উদ্দিন শাহ্ শিশু নিকেতন স্কুল ও কলেজের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইসফার মুশফিরাত ইকবাল ছোঁয়া জানান, দীর্ঘদিন পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত। আমাদের খুবই ভালো লাগছে।

 

গাইবান্ধা সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসফিয়া তাসনিম হৃদিতা জানান, দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থী মানসিক বিপর্যয়ের শিকার হচ্ছিলো। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ায় এখন সেই চিরচেনা রূপ দেখে সবাই অনেক আনন্দিত।

 

ওই কলেজের আরও একজন শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার অর্পিতা জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় বিরূপ প্রভাব পড়েছে। কিন্তু স্কুল কলেজ খুলে দেয়ায় আমরা আবারও আমাদের লেখাপড়ায় মনোযোগ দিতে পারবো। আমরা খুবই উচ্ছ্বাসিত।

 

এনিয়ে গাইবান্ধা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আবদুল কাদের সাথে কথা হলে তিনি জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার জন্য ১৯ দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল তার আলোকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে। আজ স্কুল-কলেজ খুললেও সব শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুল ও কলেজে এসেছে। সকল শিক্ষার্থীরা মাস্ক পরে স্কুলে ও কলেজে এসেছে।

 

উল্লেখ্য, দেশে করোনা শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ই মার্চ। করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সে বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। এ সময় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ থাকলেও অনলাইনে ক্লাস চালু করা হয়েছিল।

 

 

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি