১৯শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৫ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।বুধবার

ত্রিশালে দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে চলছে প্রতিমা তৈরীর কাজ!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ইমরান হাসান বুলবুল,ত্রিশাল(ময়মনস­িংহ) প্রতিনিধি:

সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের ত্রিশালে চলছে প্রতিমা তৈরীর কাজ। দূর্গাপূজার আরো বেশ কিছুদিন বাঁকী থাকলেও প্রতিমা তৈরীতে কোন অবহেলা নেই উপজেলার হিন্দু ধর্মবলম্বীদের মাঝে। এ যেন দুর্গোৎসবের আগেই মহোৎসবের আমেজ!

চলতি বছরে এই উপজেলায় মোট ৬৯টি মন্দিরে উদযাপন হতে চলেছে সনাতন ধর্মের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দূর্গাপুজা। উপজেলা সদরে অবস্থিত প্রায় প্রতিটি মন্দিরেই চলছে প্রতিমা তৈরীর উৎসব। বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছেন মৃৎশিল্পীরা। মনের মাধুরী মিশিয়ে তৈরী করছেন মা দূর্গার প্রতিমা। গত বছরে করোনার প্রভাব থাকার ফলে ঢিলেঢালা ভাবে পালিত হয়েছে দুর্গোৎসব। কিন্তু চলতি বছরে করোনার প্রভাব তেমন না থাকার ফলে দূর্গোৎসব অন্যান্য বছরের আনন্দ মুখর পরিবেশে পালিত হবে বলে জানান অনেকেই।

সরেজমিনে উপজেলার পালবাড়ি, সাহাবাড়ি, হুতারবাড়ি, পৌর মন্দিরগুলো ঘুরে জানা যায়, এবছরে অনেক আগাম প্রতিমা তৈরীর কাজ করছেন মন্দির কমিটির সদস্যরা। বর্তমান সময়ে তেমন কারিগর সংকট না থাকলেও যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রতিমা তৈরী করে নিচ্ছেন মন্দির কমিটির সদস্যরা।

মৃৎশিল্পীদে কৈলাস ও গয়ার সাথে কথা হলে তারা জানান, বিভিন্ন জায়গায় রেডিমেড দূর্গা প্রতিমা বিক্রয় হয়। কিন্তু এদিক থেকে ত্রিশাল উপজেলা একদম ব্যতিক্রম। এই অঞ্চলে প্রায় প্রতিটি মন্দিরে প্রতিমা বানানোর পাশাপাশি কিছু প্রতিমা রেডিমেড ক্রয় করা হবে। এবছরে বিভিন্ন স্থানে সর্বনিম্ন ৩ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা মূল্যে প্রতিমার অর্ডার পেয়েছেন বলেও জানান তারা। এছাড়াও অনেকে চাহিদা অনুযায়ী এসব প্রতিমার তৈরীর অর্ডার দেন।

প্রতিমা কারিগররা জানান, বর্ষাকালের কথা মাথায় রেখে আগেই প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছিল। এজন্য প্রতিমা তৈরির কাজ মোটামোটি শেষের দিকে। এখন প্রতিমাগুলোয় রঙ করাসহ আনুষাঙ্গিক কাজ করা হবে। গতবারের তুলনায় এবার প্রতিমার আকার, ডিজাইনসহ অন্যান্য বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আশা করছি পঞ্চমীর আগেই প্রতিমার সব কাজ শেষ হবে। তবে রঙ ও কারিগরদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় তেমন একটা লাভ হয় না। তারপরও বাব-দাদার পেশা তাই কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

 

ত্রিশাল উপজেলা সার্বজনীন দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শংকর রায় জানান, ১০ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন হবে। পূজার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশা করছি সরকারী স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবছরেও খুব ভালোভাবে পূজা উদযাপন করতে পারবো। ত্রিশাল পৌর এলাকায় দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেশি থাকে। অনেক দর্শনার্থীরা আসেন প্রতিমা দেখতে। সেই কথা মাথায় রেখেই নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

ত্রিশাল থানা অফিসার ইনচার্জ মাইন উদ্দিন জানান, প্রতি বছরের ন্যায় হিন্দু ধর্মালম্বীরা সুন্দর ভাবে পূজা উদযাপন করতে পারে সেইজন্য সবধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আশা করছি সরকারী নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুন্দর ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়েই দুর্গাপূজা সমাপ্ত হবে।

 

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চলতি বছরে এই উপজেলায় মোট ৬৯টি মন্দিরে দুর্গা পূজা উদযাপন হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিমা তৈরীর কার্যক্রম চলছে। এছাড়াও প্রশাসনিক দিক থেকে সকল প্রকার সহযোগীতা অব্যহত রয়েছে।

 

 

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি