২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।শনিবার

ত্রিশালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১জন খুন।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ইমরান হাসান বুলবুল,ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ

ময়মনসিংহের ত্রিশালে মোবাইল ফোন র্চাজ দেওয়াকে কেন্দ্র করে খুন হয়েছেন খামার শ্রমিক ইয়াসিন আলী। দীর্ঘ ৩৩দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গত রোববার রাত আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়। গত ২৭ জুলাই মামলা করলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। উল্টো আসামীরা বাদীদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন নিহতের পরিবার।

 

ঘটনাটি ঘটেছে ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামে। দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জনক ইয়াসিন আলী। মৎস্য খামারের তত্ত্ববধায়ক হিসাবে কাজ করতেন সহোদরের একটি মৎস্য খামারে। সেই মৎস খামারে কাউকে কিছু না জানিয়ে মোবাইল ফোন চার্জ দিয়েছে এবং কিছুক্ষন পর র্চাজ দেওয়া মোবাইল খোজেঁ পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবী করে প্রতিবেশী ইকবাল। মৎস্য খামারের তত্ত¡াবধায়ক ইয়াসিন আলী খামারে কোন মোবাইল ফোন চার্জে দেওয়া হয়নি বলে দাবী করলে বাধে বিরোধ। এরই জের ধরে গত ২৭ জুলাই খামার থেকে বাড়ী ফেরার পথে ইকবাল ও তার সহযোগীরা ইয়াসিন আলীর পথরোধ করে ধারালো ছুড়ি দিয়ে উপর্যুপুরি আঘাত করে। এসময় স্থানীয় এক প্রতিবন্ধী ও তার মা এগিয়ে এসে ঘাতকদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত ইয়াসিন আলীকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। দীর্ঘ ৩৩দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে রোববার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে মৃত্যু বরণ করেন তিনি।

 

গুরুতর আহত ও হামলার ঘটনায় ইয়াসিন আলীর ভাই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ২৭ জুলাই মামলা করলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি কাউকে। উল্টো আসামীরা বাদীদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন নিহতের পরিবার।

 

স্থানীয়, মামলা ও পুলিশ সূত্র জানায়, মৎস্য খামারে মোবাইল চার্জ না দিয়েই চার্জ দেওয়ার কথা বলে কথা কাটাকাটি হয় খামারের তত্ত¡াবধায়ক ইয়াসিন আলী (৪১) এর সাথে প্রতিপক্ষ ইকবাল হোসেনের। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২৭ জুলাই মঙ্গলবার ইয়াসিন আলী খামার থেকে বাড়ী ফেরার পথে স্থানীয় বঙ্গবন্ধু বাজারে পৌঁছালে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তার উপর হামলা করে ধানীখোলা ইউনিয়নের উজানদাস পাড়া গ্রামের মৃত আমজাদ আলীর তিন ছেলে ইকবাল হোসেন, খায়রুল ইসলাম ও লাল মিয়া। হামলাকারীরা ধারালো ছুড়ি দিয়ে উপর্যুপুরি ঘাই দিয়ে গুরুতর আহত করে ইয়াসিন আলীকে। পরে স্থানীয় শ্রবন প্রতিবন্ধী তীতু মীর ও তার মা আমিরন ঘাতকদের ধাওয়া করে আহতকে উদ্ধার করলে স্থানীয়রা তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। দীর্ঘ ৩৩দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে রোববার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে মৃত্যু বরণ করেন তিনি। নিহত ইয়াসিন আলী উপজেলার ধানীখোলা ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের শাহাব উদ্দিনের ছেলে। ইয়াসিন আলীর মৃত্যুর সংবাদে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

প্রতিপক্ষের ছুড়িকাঘাতের ঘটনায় ইয়াসিন আলীর ভাই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় গত ২৭ জুলাই একটি মামলা করেন। ঘটনার ৩৩দিন অতিবাহিত হলেও কোন আসামী গ্রেফতার করতে পারেনি ত্রিশাল থানা পুলিশ।

 

এদিকে সোমবার বিকেলে নিহত ইয়াসিন আলীর মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়না তদন্তের করা হয়।

 

নিহতের বড় ভাই শফিকুল ইসলাম জানান, আমার মাছের খামারটি বিবাদীদের বাড়ীর পাশে হওয়ায় দীর্ঘদিন যাবত তারা খামারের ক্ষয়-ক্ষতি করার হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে, এর প্রতিবাদ করায় বিবাদীরা আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের খুন-জখম করিবে বলিয়া বলাবলি করিয়া আসছে। এরই ধারা বাহিকতায় তারা আমার ভাইকে হত্যা করেছে। তিনি ভাই হত্যাকারীদের দৃষ্টান্ত মূলক বিচার দাবী করেন।

 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ত্রিশাল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, আসামীদের লোকেশন পাওয়া যাচ্ছে না, গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 

ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন জানান, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে আসামীদের গ্রেফতার অভিযান চলছে, তবে তারা ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। তবে দ্রæত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেফতার করা হবে বলেও জানান তিনি।

 

 

 

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি