২৩শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৮ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।মঙ্গলবার

তিস্তার ভয়াবহ বন্যায়-দু’শত কোটি টাকা ক্ষতি ছাড়িয়ে যাবে! 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মোঃ মাসুদ রানা রাশেদঃ

শীতের আগমনী বার্তায় ও বর্ষার শেষে হঠাৎ করে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা ৭০সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এ কারণে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর সঠিক হিসাব বের করা সম্ভব না হলেও বিভিন্ন দপ্তরের প্রাথমিক জরিপ সূত্রে জানাযায়, ক্ষতির পরিমান ২০০কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায়। ওই উপজেলার গডিমারী ইউনিয়নের অধিকাংশ কাঁচা-পাকা সড়ক ভেঙে গেছে। অধিকাংশ জমির ফসল পানিতে ডুবে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতি-গ্রস্তদের পুর্ণবাসনের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করেছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুর্ণবাসন করতে কৃষি ও কৃষকদের ঘিরে সরকার নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করবে- এমনটি দাবি তুলেছেন তিস্তাপাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত-বানভাসি লোকজন।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, হঠাৎ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কৃষিতে। হাজার হাজার হেক্টর জমির পাকা আমন ধান, আলু, ভুট্টা ও পেঁয়াজ ক্ষেত পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে পচে গেছে।

 

হাতীবান্ধা উপজেলার চর গড্ডিমারী গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার ৬ বিঘা জমির পাকা ধান ডুবে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। আমার ছোট ভাইয়ের ১১বিঘা জমির ভুট্টা ও আলু নষ্ট হয়ে গেছে। পাশের বাড়ির একজনের ২৩বস্তা সার বন্যার পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যায় তিস্তা তীরবর্তী এলাকাগুলোর কাচা-পাকা সড়কগুলো ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং লোকজন চলাচল চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

 

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অডিধদপ্তরের উপ-পরিচালক শামীম আশরাফ বলেন, বন্যার কারণে জেলায় মোট ৩হাজার ৩৮০হেক্টর পানিতে ডুবে গেছে। এরমধ্যে ২ হাজার ৯৫৫ হেক্টর আমন ধান। পাশাপাশি ভুট্টা- ১৯২ হেক্টর, বাদাম ৫২ হেক্টর , আলু ৬৪ হেক্টর, মাশকলাই ৫ হেক্টর, মরিচ- ৫ হেক্টর, পেঁয়াজ ১৬ হেক্টর , সবজি ৯১ হেক্টর জমি পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এতে ক্ষতির পরিমান প্রায় ৩০ কোটি টাকা।

 

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুকুল ইসলাম জানান, হঠাৎ বন্যায় প্রায় ১১৭ হেক্টর জমির ক্ষতিগ্রস্থ পুকুরের সংখ্যা ৯৩৬ টি। এরমধ্যে মাছ ২২৪ মেট্রিক টান, পোনা-৩৫ লক্ষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ফলে মাছ ও পোনা মিলে আনুমানিক ক্ষতি প্রায় ৪ কোটি টাকা।

 

এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফ আলী বলেন, ৯০ কিলোমিটার পাকা রাস্তাসহ বেশ কয়েকটি সেতু নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ক্ষতির পরিমান প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। পানি উন্নয়নের বোর্ডের দাবি, এ বন্যায় তাদের ক্ষতির পরিমান ২০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। অব-কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমান প্রায় ৭৫ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ধারণা করা হচ্ছে, এ বন্যায় ক্ষতির পরিমান ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

 

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, এবারের বন্যায় জেলার অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্ণবাসনের জন্য তালিকা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।