১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩০শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।রবিবার

তানোরের পাঁচন্দর বাধাইড়ে চলছে বিজয়ের উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

সারোয়ার হোসেন,তানোর:

রাজশাহী তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ও বাধাইড় ইউপিতে চলতেই আছে ইউপি নির্বাচন পরবর্তী বিজয়ের উৎসব। নৌকা প্রতীক নিয়ে পরপর চেয়ারম্যান হওয়ার কারন এবং এক ব্যক্তি ও পরিবার থেকে ইউপির জনসাধারণ মুক্তি পাওয়ায়

ব অবিরাম ভাবে চলতেই আছে বিজয়ী নৌকা প্রতীকের পাঁচন্দর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন ও বাধাইড় ইউপির বিজয়ী আতাউর রহমানকে ঘিরে চলছে অবিরত সংবর্ধনা। ইউপির প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সামাজিক সংগঠন ,গ্রাম, ওয়ার্ড,দল থেকে নবাগত চেয়ারম্যানদের কে দিতেই আছেন সংবর্ধনা। এর অবশ্য যথেষ্ট কারনও আছে,পাঁচন্দর ও বাধাইড় ইউপি নির্বাচনের আগে উপজেলা আ”লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী চ্যালেন্জ করে বলেছিলেন এই দুই ইউপি আমাদের নিজস্ব পরিবারের মত।এখানে আমি রাব্বানী যাকেই ইচ্ছে তাকেই চেয়ারম্যান করতে পারি।এখানে কোন প্রতীক লাগবেনা।রাব্বানীই বড় প্রতীক।যার প্রেক্ষিতে রাব্বানী তার আপন ছোট ভাই শরিফুল ইসলাম কে পাঁচন্দর ও ভাগ্নে রফিকুল ইসলাম কে মোটরসাইকেল প্রতীকে নৌকার বিরুদ্ধে ভেটের মাঠে নামিয়ে, করুন পরাজয় বরন করতে হয়েছে।এবিজয়ের মাধ্যমে রাব্বানী পরিবারের একক আধিপত্য খর্ব হয়েছে বলে মনে করেন ইউপির ভোটারেরা।অবশ্য পাঁচন্দর ইউপি বাসী দাবি করেছিলেন নৌকার বিজয় ঘটিয়ে এক পরিবার থেকে ইউপিকে স্বাধীন করা হবে।হয়েছেও তাই। এজন্যই এত উৎসব আনন্দ ইউপি বাসীর মধ্যে।

জানা গেছে, চলতি মাসের গত ১১নভেম্বর বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর তানোর উপজেলার ছয়টি ইউপির নির্বাচন। এই নির্বাচনে পাঁচন্দর ইউপিতে ভোট করেন নৌকা মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন, মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন রাব্বানীর ভাই শরিফুল ইসলাম। তিনি গত উপজেলা নির্বাচনে নৌকার বিরুদ্ধে হাতুড়ি প্রতীক নিয়ে ভোট করে পরাজিত হন।ওই ইউপিতে বিএনপির পাঁচন্দর ইউপির সাবেক সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান মমিনুল হক মমিন চশমা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নৌকার প্রার্থী মতিন দ্বিতীয় বারের মত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

ইউপির জনসাধারণ জানান,পাঁচন্দর ইউপির ভোট চ্যালেন্জিং হয়ে উঠে। সবার একটাই কথা ছিল কোন পরিবারের কাছে জিম্মি থাকবনা। ইউপিকে ব্যালটের মাধ্যমে স্বাধীন করা হবে।যার কারনেই বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে রাব্বানী পরিবারের আধিপত্য খর্ব করা হয়েছে। তারা আরো জানান অতীতের সবকিছু ভুলে মানুষ নৌকাকে বিজয়ী করতে এক কাতারে সামিল হন।নানা কৌশলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী নৌকার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েও তার ভাইকে বিজয়ী করতে পারেন নি।রাব্বানীর পরিবার মুন্ডুমালা পৌরসভার ভোটার।শুধুমাত্র শরিফুলকে ইউপির ভোটার করে রাখেন পাঁচন্দর ইউপির চেয়ারম্যান করার জন্য।

অপর দিকে বাধাইড় ইউপিতেও রাব্বানী তার ভাগ্নে রফিকুল ইসলাম নামের একজনকে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ভোট করতে নির্দেশ দেন।এই রফিকের দলে ইউপি তো দূরে থাক ওয়ার্ডের কোন সদস্যও না।

বাধাইড় ইউপির নেতাকর্মীরা জানান,উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী মনে করেছিল তার কথায় সব ভোট হয়ে যাবে।মানে মানুষ এতই পাগল তার কথায় সব হবে। নৌকার বিরুদ্ধে তাদের পারিবারিক প্রতীক নাকি মোটরসাইকেল। তারা যেটাই করবে ইউপি বাসী নাকি তাদের কথামত সবকিছু করবে।অতীতের কথা ভুলে যেতে হবে।আগামীতে নিজের জায়গা থাকবে কিনা।কারন তিনি ও সাধারন সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রকাশ্যে নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাদেরকে আওয়ামী লীগ দেখতে চায় না।তারা যেন মোটরসাইকেল নিয়েই আজীবন থাকতে হয়। তাদের মুখরোচক কথাই মানুষ ভুলবেনা।তারা মনে করত পাঁচন্দর বাধাইড় ইউপির জনসাধারণ তাদের উপরই শুধু আস্হা ভালোবাসা আছে,আর কারো উপরে নাই। কিন্তু দুই ইউপির জনগন ব্যালটের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছে তোমাদের দিন শেষ। ভোট নিয়ে আর বানিজ্যও হবেনা।এখন পাঁচন্দর বাধাইড় স্বাধীন।

বিজয়ী চেয়ারম্যান মতিন, আতাউর ইউপি বাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, মানুষ বুঝতে শিখেছে। কারো বা কোন পরিবারের উপর আস্হাশীল নয়।সেটা ভোটের ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের বিজয়ী করেছেন।দলের সাথে বেইমানির ফল এমনই হয়।তাদের উচিত হবে রাজনীতির মাঠ থেকে সরে যাওয়া।মানুষ উন্নয়ন চাই,আর সে জন্য নৌকার বিকল্প নাই। পাঁচ বছরে ইউপির বাকি উন্নয়ন কাজ শেষ করে জনগনের সেবক হয়েই যেন দায়িত্ব পালন করি। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সেবক হিসেবেই যেন কবুল করেন।এটাই প্রত্যাশা।

 

 

 

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।

অররবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আসাদুল ইসলাম (১৯) নামে কয়রার এক কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে। আমাদী জায়গীমহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদুলের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কলেজছাত্র আসাদুল। কিন্তু প্রেমিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজছাত্রের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানতাম। মেয়েটির সঙ্গে কয়েকবার দেখাও করেছেন তিনি। পরে ঐ মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আসাদুল তার পরিবারকে জানান। তার পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি মেয়েটি রাজি হয়নি। হয়তো সেই দুঃখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কয়রা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, কলেজছাত্রটি আলাদা ঘরে থাকতেন। সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তার সোজাসুজি রাখা ভিডিও কল চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অপর প্রান্তে থাকা কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কয়রার যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।

মহম্মদপুরের দীঘা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামে স্বামী -স্ত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা – ভিভিও লিংক https://www.facebook.com/share/v/9BEDCU22mRgdpqjn/?mibextid=oFDknk

মহম্মদপুরের দীঘা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামে স্বামী -স্ত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা – ভিভিও লিংক https://www.facebook.com/share/v/9BEDCU22mRgdpqjn/?mibextid=oFDknk

মহম্মদপুরের দীঘা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামে স্বামী -স্ত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা – ভিভিও লিংক https://www.facebook.com/share/v/9BEDCU22mRgdpqjn/?mibextid=oFDknk

মহম্মদপুরের দীঘা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামে স্বামী -স্ত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা – ভিভিও লিংক

মহম্মদপুরের দীঘা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামে স্বামী -স্ত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা – ভিভিও লিংক