১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।রবিবার

ডুমুরিয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহাসিক ঘোড়ার গাড়ি ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সরদার বাদশা চুকনগর প্রতিনিধি ।

 

আধুনিক যান্ত্রিক ছোঁয়ার হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি। সেই সাথে হারিয়ে যাচ্ছে গাড়িয়াল পেশাও। গ্রামগঞ্জের আঁকাবাঁকা মেঠো পথ ধরে ধীরে ধীরে বয়ে চলে ঘোড়ার গাড়ি এখন আর চোখে পড়ে না। যা একসময় খুলনা ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন এ ঐতিহ্যবাহী বহন হিসেবে প্রচলিত ছিল। বিভিন্ন উৎসব – পার্বণে এই বাহনগুলো ছিল অপরিহার্য। গাড়িয়ালরা গাড়ি চালানোর সময় আনন্দে গাইতো “ও কি গাড়িয়াল ভাই কত রব আমি পণ্তের দিকে চাইয়া রে…। এখন আর চাইয়া থাকলেও ঘোড়ার গাড়ি ও চোখে পড়বে না।এখন আর গান ও গায়না গাড়িয়ালরা। ডুমুরিযা সদর সহ বিভিন্ন ইউনিয়নে বিয়ে এবং অন্য উৎসবে ঘোড়ার গাড়ি ছাড়া বিয়েই অসম্পূর্ণ থেকে যেত। কিন্তু আধুনিক এই যুগে হারিয়ে যাচ্ছে ঘোড়ার গাড়ি। হাতে গোনা দু একটা গাড়ি ডুমুরিয়া সদরে দেখা গেলেও তা ব্যবহার হয় কাট ও বিভিন্ন মাল বহনের জন্য এ ছাড়া আজকাল চোখেই পড়ে না এই গাড়িগুলো। এক সময় ডুমুরিয়া বেশিরভাগ গ্রামগুলোর বসবাসকারী মানুষদের যাতায়াত ও কৃষি পন্যসহ প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনের মাধ্যমে ছিলো ঘোড়ার গাড়ি আজ শহরের ছেলে মেয়ে রা তো দূরে কথা গ্রামের ছেলে মেয়েরা ও ঘোড়ার গাড়ি এই যানবাহনের সাথে খুব একটা পরিচিত নয়। আগে অনেকেরই এই গাড়িগুলো ছিল উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন। ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতো।তার পর বিভিন্ন জায়গায় ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ, মাঠের ফসল বহন,বিভিন্ন মালামাল পরিবহন করে অনেক টাকা উপার্জন করতো।কিন্তু এখন প্রায় এসব গাড়ি বিলুপ্তির পথে। দু- একটা গ্রাম ১/২ টা ঘোড়ার গাড়ি পাওয়া যায়,তাছাড়া তো চোখেই পড়ে না ঘোড়ার গাড়ি। যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে এখন ঘোড়ার গাড়ি বিলুপ্তির পথে। বাংলা এবং বাঙালির ঐতিহ্যগুলোকে বাহনগুলো বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন।আধুনিকতার যান্ত্রিক ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঘোড়ার গাড়ি। সেই সাথে হারিয়ে যাচ্ছে গাড়িয়াল পেশাও।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি