১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

ডুমুরিয়ার পানি সিংড়া ফল দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এখন বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

সরদার বাদশা,নিজস্ব প্রতিনিধি।

খুলনা ডুমুরিয়ায় বানিজ্যিক ভাবে চাষ হচ্ছে পানি ফল বা পানি সিংড়া। এ ফল সরবরাহ করা হচ্ছে খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, রাজধানীঢাকাসহ সমগ্র বাংলাদেশে। এখন বাংলাদেশে পেরিয়ে ,পানি ফল বা পানি সিংড়া রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে। চাষে লাভজনক হওয়ায় পানি ফল চাষে ঝুকছে বাংলাদেশের ফসল চাষের উর্বর ভূমি ডুমুরিয়ার কৃষক চাষীরা । ডুমুরিয়ার আশপাশের বিভিন্ন বিল ও জলাশয়ে এ পানি ফল চাষ করা হচ্ছে । পানিতে জন্মে বলে এ ফলের নাম পানি ফল বা পানি সিংড়া স্থানীয় চাষীরা এই নামে ডেকে থাকে এই ফল কে। লতাপাতার মত জলাশয়ে ভাসতে দেখা যায় পানি ফলের গাছ । মৌসুমী ফসল হিসেবে পানি ফল চাষ করা হয় । অনেকে মাছের সাথে মিশ্রভাবেও পানি ফলের চাষ করে থাকে। পানি ফলে পানি ও প্রচুর খনিজ উপাদান থাকে বলে অভিমত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা ,ডুমুরিয়ায় পতিত খালবিল ও জলাশয় জুড়ে চাষ হচ্ছে পানি ফলের । লাভজনক হওয়ায় এ উপজেলায় প্রতিবছর বাড়ছে এ ফলের চাষ । প্রতিবছর যেমন চাষ বাড়ছে তেমননি প্রতিটি হাট বাজারে বেচাকেনাও বৃদ্ধি পেয়েছে । ফলে বেকারত্ব দূর হচ্ছে, কৃষকরা এই ফল চাষ করে স্বাবলম্বীও হচ্ছে । পানি ফল চাষ মূলত্র কম খরচে , কম পরিশ্রমে লাভজনক ফসল বলে জানিয়েছেন চুকনগর চাকুন্দিয়ার কৃষক মোঃ মনিরুজ্জামান হালদার, তিনি আরো বলেন আমরা পাঁচজন কৃষক মিলে পঁচিশ বিঘা জমিতে এই পানিফল চাষ করেছি ও ব্যাপক লাভবান হচ্ছি । খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায় , আষাঢ় মাস থেকে ভাদ্র বা আশ্বিন মাস পর্যন্ত চারা লাগানো যায় । চারা লাগানোর দুই থেকে আড়াই মাস পর ফল তোলা যায় । প্রতি গাছ থেকে ৩ / ৪ বার ফল তোলা যায় । এভাবে পৌষ মাস পর্যন্ত ফল পাওয়া যায় । এ ফলের কোন বীজ নেই । মৌসুম শেষে পরিপক্ক ফল থেকে আবারও চারা গজায় । সে চারা পরে জলাশয়ে লাগানো হয় । তবে খুলনা কৃষি বিভাগ আশা করছে আগামী বছরে আরও বেশী জলাশয়ে এ ফলের চাষ হবে । উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের লতা গ্রামের দীপঙ্কর বিশ্বাস বলেন , তিনি এ বছর সাড়ে ৭ বিঘা জমিতে পানি ফল চাষ করেছে, ও বিগত চার বছর ধরে তিনি এই ফল চাষ করে আসছেন । খরচ অতি সামান্য খরচের তুলনায় প্রায় ১০ গুন লাভ হবে কৃষকের । এদিকে কম খরচে লাভবান হওয়ায় ডুমুরিয়ার কৃষকরা এ ফলের চাষে আগ্রহী হচ্ছে।এছাড়া উপজেলার বিল ডাকাতিয়া বিলে কৃষক নিরান বাড়ুই, কালিপদ জোয়াদ্দার, সুরজিৎ বাড়ুইসহ অনেক কৃষক লাগিয়েছে এই পানিফল ,সেখানকার খাল বিল জলাশয় জুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে পানি ফলের চাষাবাদ । প্রতিটি শহর ও গ্রামে এ ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে । সিদ্ধ করেও এ ফল খাওয়া যায় । বাজারে কাঁচা ফলের পাশাপাশি সিদ্ধ ফলও বিক্রি হয়ে থাকে । উপজেলার চুকনগর বাজারের ফল ব্যবসায়ী মোঃ শফিকুল ইসলাম , মোঃ হযরত মোড়ল, মোঃ আশেক আলীসহ অনেক ব্যবসায়ী জানান আশ্বিস থেকে পৌষ মাস পর্যন্ত পুরোদমে এ ফল বিক্রয় করা যায় । সিজোনাল ফল হওয়ায় প্রতিদিন ১মণ ফল বিক্রয় করা সম্ভব । এতে প্রায় ৫/৬ শ টাকা লাভ হয় ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন বলেন , পানি ফল অত্যন্ত সুসাধু । ডুমুরিয়া থেকে পানি ফলসহ এর চারা দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে যাচ্ছে । কৃষি বিভাগ প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করছে । আগামীতে এ উপজেলায় পানি ফল চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা করেন ।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।

অররবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আসাদুল ইসলাম (১৯) নামে কয়রার এক কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে। আমাদী জায়গীমহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদুলের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কলেজছাত্র আসাদুল। কিন্তু প্রেমিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজছাত্রের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানতাম। মেয়েটির সঙ্গে কয়েকবার দেখাও করেছেন তিনি। পরে ঐ মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আসাদুল তার পরিবারকে জানান। তার পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি মেয়েটি রাজি হয়নি। হয়তো সেই দুঃখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কয়রা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, কলেজছাত্রটি আলাদা ঘরে থাকতেন। সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তার সোজাসুজি রাখা ভিডিও কল চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অপর প্রান্তে থাকা কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কয়রার যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।