১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।বৃহস্পতিবার

ডুমুরিয়ায় ভারী বর্ষণে চিংড়ি ঘের, আমন বীজতলা ও ফসলী জমি তলিয়ে ক্ষয়ক্ষতি কয়েক কোটি টাকা।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

খুলনা জেলা প্রতিনিধি।

 

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ভারী বর্ষণে নিন্মঞ্চালসহ চিংড়ি ঘের, বীজতলা ও ফসলী জমি তলিয়ে গেছেও অনেক কাচা ঘর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

সরোজমিনে এলাকায় পরিদর্শন করেছেন ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমেদ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃআবদুল ওয়াদুদ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ আবুবকর সিদ্দিক। খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম আব্দুল মতিন।

গত মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দিনভর ভারী বর্ষণে ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া টিপনা,‌চুকনগর,

মাদার তলা,চ্যাংমারী, শাহাপুর, সাহস রাজাপুর,সরাফপুর, শোভনা ‌মাগুরখালীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিন্ম অঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। ভারী বর্ষণের ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। অনেক রাস্তা ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অসংখ্য চিংড়ী ঘের, আমন বীজতলা ও ফসলী জমি তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার তলিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেন।

 

ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমেদ বলেছেন,ডুমুরিয়া ১৪টি ইউনিয়নের নিন্ম অঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক লীজ ঘের তলিয়ে গেছে,ভারী বর্ষণের ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে যার ফলে আমি ‌ডুমুরিয়ার ১৪ টি‌ ইউনিয়নের প্রায় যায়গা পরির্দশন‌‌ করেছি,

 

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত পানি নিষ্কাসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন ভারী বর্ষনে ৫ হেঃ আমন বীজতলা, ৭ হেঃ সবজি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আগামীতে সরকারি বরাদ্দ সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের তালিকা তৈরী করে পূরনর্বাসন করা হবে।

 

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মো. আবুবকর সিদ্দিক জানান তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। অতিবর্ষন ও জোয়ারের পানিতে ডুমুরিয়া উপজেলার ১৯০৮ হেক্টর আয়তনের ২৬৫০ টি ঘের ও ১৯.৫ হেক্টর আয়তনের ২৩০ টি পুকুর গলদা-বাগদা রেনু ও রুইজাতীয় মাছসহ ভেসে গেছে। পুকুর ও ঘেরের অবকাঠামো ক্ষতি ১০ লক্ষাধিক টাকা সহ মৎস্য খাতে প্রায় ৭ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।ডুমুরিয়ায় ভারী বর্ষণে চিংড়ি ঘের, আমন বীজতলা ও ফসলী জমি তলিয়ে গেছে।

রঘুনাথ পুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল খোকন, সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বুলু। খর্নিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ দিদার হোসেন দিদার জানিয়েছেন, ইউনিয়নের নিন্মঅঞ্চল চিংড়ি ঘের ও আমন বীজতলা তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রাতে টিপনা ও বিলশিংগা অনেক লীজ ঘের তলিয়ে গেছে।

এছাড়া অনেকের মাটির ঘর অতিবর্ষণের ফলে ভেঙ্গে গেছে।

খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডুমুরিয়া জোনাল অফিসের ডিজি এম মোঃ আব্দুল মতিন জানান

ডুমুরিয়া জোনাল অফিস এর আওতাধীন বৈদ্যুতিক লাইনের ক্ষতি হয়েছে,পোল হেলা- ৪টি এইচটি তার ছেড়া-১৩টি এলটি তার ছেড়া- ২৫টিগাই তার ছেড়া –

এসডি ছেড়া -৩৫ টি মিটার ভাঙ্গা/পোড়া – ২৭টি

লাইনে গাছ পড়া- ৫৬ টি.ট্রান্সফরমার ফিউজ পুড়া-৩৫টি সেকশন ফিউজ পোড়া-৩২টি, ক্রস আম পোড়াঃ ০০টি,ট্রান্সফরমার নষ্টঃ ৪ টি

বর্তমানে ডুমুরিয়া জোনাল অফিসের সকল ৩৩ ও ১১ কেভি ফিডার চালু রয়েছেন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি