১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

ডিসি’র নির্দেশ উপেক্ষিত ; সরকারি সড়কে তারকাঁটা ও লোহার গেইট অপসারণ করেনি সোলায়মান।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নিজস্ব প্রতিবেদক।

 

সোনাগাজী উপজেলাধীন থাক খোয়াজের লামছি মৌজার মুহুরী প্রকল্প এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ীবাঁধ ও সরকারী রাস্তা দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালী সোলায়মান (প্রকাশ- মেজর সোলায়মান) লোহার গেইট স্থাপন করে জনগণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও সড়কের পাশে তারকাঁটার ঘেরা দেওয়ায় দুর্ঘটনা আশংকায় স্থানীয় জনসাধারণ রাস্তা উম্মুক্ত করে দেওয়ার দাবিতে বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করলেও তারকাঁটার ঘেরা ও সড়কে স্থাপিত লোহার গেইট অপসারণ করেনি সোলায়মান। স্থানীয় কৃষক সফিউল্লা, মিলন, ইব্রাহিম, কেফায়েত, নজরুল, নাছির, নিজাম সহ স্থানীয়রা জানান- সোলায়মানের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে মামলা হামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

গত ৮ই সেপ্টেম্বর স্থানীয়দের পক্ষে সাংবাদিক গাজী মোহাম্মদ হানিফ সোনাগাজী সদর ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল আরেফিন এর কার্যালয়ে রাস্তা উম্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য লিখিত আবেদন পেশ করেন। চেয়ারম্যান শামসুল আরেফিন জানান- সোলায়মান মেজরের বিরুদ্ধে এর আগেও তার পল্লী আদালতে মানুষের জমি দখলের ৮/১০টা অভিযোগ আসলে তাকে নোটিশ করা হয়, সে পল্লী আদালতে হাজির নাহয়ে উল্টো চেয়ারম্যান ও অভিযোগ কারীদের বিবাদী করে এডিএম কোর্টে মামলা দায়ের করে হয়রানি করেন।

গত ১০ই সেপ্টেম্বর সোনাগাজী মুহুরী প্রজেক্ট আঞ্চলিক মহাসড়কে সোলায়মান কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভূমি মালিকগণ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। ১২ই সেপ্টেম্বর সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। ১৩ই সেপ্টেম্বর ফেনীর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর জনগণের চলাচলের জন্য সড়ক উম্মুক্ত করে দেওয়ার দাবিতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়, অভিযোগের অনুলিপি ফেনী-৩ আসনের সাংসদ, সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান, এএসপি সার্কেল, আইএসপিআর, সোনাগাজী মডেল থানা ও গণমাধ্যম অফিসে পাঠানো হয়।

১৩ই সেপ্টেম্বর বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সরেজমিন তদন্ত করেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নুরুননবী, তিনি বলেন- সড়ক কাউকে ইজারা দেওয়া হবেনা, সকলের চলাচলের জন্য উম্মুক্ত থাকবে।

২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে বাংলাদেশ মানবাধিকার সম্মিলন (বামাস) চেয়ারম্যান এড. জাহাঙ্গীর আলম নান্টু সহ গণমাধ্যম কর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সোলায়মান’কে উক্ত সড়ক উম্মুক্ত রাখার অনুরোধ জানান।

ফেনীর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের নির্দেশে ১২ই অক্টোবর দুপুরে সরেজমিন তদন্ত করেন সোনাগাজী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আবদুর রহিম সরকার, সাব ইন্সপেক্টর মোবারক হোসেন ও বেলায়েত হোসেন। মেজর সোলায়মান সরকারি রাস্তায় গেইট ও গাছ লাগানোর বিষয়টি স্বীকার করে জানান- সড়কে কাউকে চলাচলে বাধা দেওয়া হবেনা, তবে গেইট অপসারণ করতে তিনি রাজি হননি।

২০ই অক্টোবর বুধবার সকাল ১১টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন- ফেনীর জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান। সেখানে উপস্থিত এলাকাবাসী ও সাংবাদিকগণ মেজর সোলায়মান কর্তৃক রাস্তায় গেইট ও তারকাঁটা লাগিয়ে রাস্তা অবরুদ্ধ করার বিষয়টি আবারও উপস্থাপন করলে জেলা প্রশাসক সোলায়মানকে সড়কে স্থাপিত তারকাঁটার ঘেরা ও লোহার গেইট সরিয়ে নিতে বলেন। বিষয়টির সংবাদ শতাধিক প্রিন্ট ও অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। কিন্তু জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা দেওয়ার ২ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি রাস্তায় তারকাঁটার ঘেরা ও সড়কে স্থাপিত লোহার গেইট অপসারণে কোন উদ্যোগ নেয়নি দখলদার মেজর (অবঃ) সোলায়মান।

মেজর (অবঃ) সোলায়মান কর্তৃক জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অমান্য করার বিষয়ে জানতে চাইলে সোনাগাজী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিখন বণিক জানান- ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে ইউএনও স্যারের সাথে কথা হয়েছে, ডিসি স্যারের সাথে আলোচনা হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।

অররবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আসাদুল ইসলাম (১৯) নামে কয়রার এক কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে। আমাদী জায়গীমহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদুলের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কলেজছাত্র আসাদুল। কিন্তু প্রেমিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজছাত্রের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানতাম। মেয়েটির সঙ্গে কয়েকবার দেখাও করেছেন তিনি। পরে ঐ মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আসাদুল তার পরিবারকে জানান। তার পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি মেয়েটি রাজি হয়নি। হয়তো সেই দুঃখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কয়রা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, কলেজছাত্রটি আলাদা ঘরে থাকতেন। সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তার সোজাসুজি রাখা ভিডিও কল চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অপর প্রান্তে থাকা কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কয়রার যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।