১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

ঝিকরগাছায় নারী উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে সড়যন্ত্র : ইউএনওর নিকট অভিযোগ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

শাহাবুদ্দিন মোড়ল ঝিকরগাছা যশোর :

ঝিকরগাছায় নারী উদ্যোক্তা মোছাঃ কল্পনা খাতুন (২৮) এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সড়যন্ত্র হওয়ায় তিনি সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এর নিকট অভিযোগ অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি ঝিকরগাছা (কাটাখাল পালবাড়ি সংলগ্ন ‘স’ মিলের পাশে) গ্রামের মাহাবুবুর রহমানের স্ত্রী। সে তার অভিযোগে ৫জনকে বিবাদী করেছেন। বিবাদীরা হলেন, একই গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে মিরাজ হোসেন (২৯), আল-আমিন (৩১), মৃত জোহর সরদারের ছেলে ইউনুস আলী (৫৫), লুকমান আলীর ছেলে হাসান আলী (২৯) সহ লুকমান আলী (৬০)।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাদি মোছাঃ কল্পনা খাতুন প্রাণিসম্পদ বিষয়ে ২০১৮সালে যশোরের আদ্-দ্বীন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের মাধ্যমে লেয়ার পালনের উপর ট্রেনিং গ্রহণ করে বর্তমানে একজন সফল উদ্যোক্তা। “মেসার্স কল্পনা লেয়ার ফার্ম” নামে তার বাড়িতে একটি মুরগীর ফার্ম রয়েছে। বর্তমানে একটি কুচক্র মহল তার বিরুদ্ধে সড়যন্ত্র করছে। উক্ত বিবাদীদ্বয় তার প্রতিবেশী। ১,২ ও ৩নং বিবাদীদেরও একটি মুরগীর ফার্ম রয়েছে। কিন্তু ৪ও ৫নং বিবাদীর কু-পরামর্শে ১,২ ও ৩নং বিবাদী বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে তার সহ পরিবারের উপর অহেতুক ঝমেলা সৃষ্টি করে হয়রানি করছে। তার কার্যক্রম পরিচালনা করতে বাঁধা প্রদান করছে এবং তার সহ তার পরিবারের সদস্যদের মারধর ও হত্যার হুমকি প্রদান করছে।

ঘটনার বিষয়ে ১নং বিবাদী মিরাজ হোসেন বলেন, তারা মুরগী পোষে আমাদের গন্ধ লাগে আমি নিষেধ করেছি এবং এই বিষয় নিয়ে বসাবসি হয়। কিন্তু তারা মুরগী বিক্রয় করতে চেয়েছে। তবে তার মুরগী বিক্রয় করেনি। তার সহ তার পরিবারের সদস্যদের মারধর ও হত্যার হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বিকার করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ মাহবুবুল হক বলেন, আমার নিকট একটি অভিযোগ এসেছে। একজন উদ্যোক্তা আর একজনের বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ পরিচালনা করতে পারবে না। আমি উক্ত বিষয়টির উপর দ্রুত তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।

অররবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আসাদুল ইসলাম (১৯) নামে কয়রার এক কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে। আমাদী জায়গীমহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদুলের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কলেজছাত্র আসাদুল। কিন্তু প্রেমিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজছাত্রের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানতাম। মেয়েটির সঙ্গে কয়েকবার দেখাও করেছেন তিনি। পরে ঐ মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আসাদুল তার পরিবারকে জানান। তার পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি মেয়েটি রাজি হয়নি। হয়তো সেই দুঃখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কয়রা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, কলেজছাত্রটি আলাদা ঘরে থাকতেন। সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তার সোজাসুজি রাখা ভিডিও কল চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অপর প্রান্তে থাকা কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কয়রার যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।