২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।শনিবার

জীবন্ত গাছে বিদ্যুৎ লাইন আতঙ্কে এলাকাবাসী।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ।

 

খাগড়াছড়ির রামগড় পৌরসভার বল্টুরামটিলা এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য খুঁটির পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে জীবন্ত গাছ। প্রায় ২০ বছর ধরে এভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে রামগড় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এর বিরুদ্ধে। বড় কোনো দুর্ঘটনার ঘটে যাওয়ার ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে এ এলাকার বাসিন্দারা। তবে আবাসিক প্রকৌশলী দাবি করছেন তিনি বিষয়টি জানতেন না।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, বল্টুরাম টিলা এলাকার মুসলিম পাড়ার একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে হকটিলা পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে বাড়ি এবং দোকানপাটে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় বৈদ্যুতিক লাইনগুলো ঝুলে মাটিতে এসে পড়েছে। এতে ঝড়, বৃষ্টি কিংবা বাতাসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী অহিদুর রহমান জানান, মুসলিম পাড়া থেকে হক টিলায় প্রায় ৫০-৬০টি গাছের সঙ্গে বেঁধে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ সড়কের পাশে অবস্থিত গাছগুলো দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। বিদ্যুতের তার এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে থাকায় যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মৌলভি গোলাপ মিয়া (৭৫) জানান, ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে এভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর ঘরের টিনের ওপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন নেওয়া হয়েছে। যার ফলে গত বছর তার বাড়িতে আগুন লাগে। পিডিবিকে জানালেও তারা কোনো প্রকার ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানান তিনি।

 

রামগড় পৌর ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হক জানান, নিয়মের তোয়াক্কা না করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে পিডিবি। তারের কাছে থাকা গাছের ডাল দীর্ঘদিন কাটা হয়নি। সামান্য বাতাস এলেই ডালে আগুন ধরে যায়। তারগুলো খুব নিচে ঝুলে থাকায় গ্রামবাসী আতঙ্কে থাকে। স্থানীয় কাউন্সিলর এবং পিডিবিকে অনেকবার এ বিষয়ে জানানো হয়েছে।

 

রামগড় পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড বল্টুরামটিলার কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন জানান, মুসলিম পাড়া থেকে হকটিলা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করার প্রক্রিয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ভুক্তভোগীরা অনেক আগে থেকে এ বিষয়ে তাঁকে জানিয়েছেন। বিষয়টি পিডিবি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

 

জীবন্ত গাছে বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ তা স্বীকার করে রামগড় পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী আহসান উল্ল্যাহ জানান, কর্মস্থলে নতুন যোগদান করায় তিনি বিষয়টি জানতেন না। বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ১০০-২০০ ফুট বেশি দূরত্বে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা উচিত নয়। খুব শিগগিরই গাছ থেকে লাইনগুলো সরিয়ে নতুন বৈদ্যুতিক পিলারে সেগুলো স্থাপন করে দেবেন বলে আশ্বাস দেন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি