১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।মঙ্গলবার

চুকনগর কৃষকরা পাটের দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নিজস্ব প্রতিনিধি,সরদার বাদশ।

 

খুলনা ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর এলাকার গ্রামগঞ্জের রাস্তার দিয়ে হাঁটলে দেখতে পাবেন রাস্তার পাশ দিয়ে নাকে আসছে পাট জাক দেওয়া পচা গন্ধ। কেউ কেউ নাক ঢাকে কাপড় দিয়ে কিন্তু এই গন্ধ যেন কৃষকের নাকে স্বপ্ন পুরোনের গন্ধ,এ গন্ধই জানান দিচ্ছে সোনালী আঁশের বার্তা। চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ পাটের আবাদ করা হয়েছে ডুমুরিয়া উপজেলাতে। আবহাওয়া পাট চাষের অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। পাটের এমন বাম্পার ফলনে ও দাম ভাল পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এবার তারা বেশি লাভের আশা করছেন। সুদিন ফিরে এসেছে পাট চাষে এমন কথা বলেছেন অনেক কৃষক।

পাট চাষের প্রধান সমস্যা হলো আঁশ পচানোর পানি। অন্য বছর কৃষক পানির পেছনে ছুটলেও এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়াতে তারা পাট ক্ষেতেই পাশে খানা,খন্দপ,নর্দমা বা পুকুরে জাগ দেয়ার কাজ সারছেন কৃষকরা । কৃষকরা জানান পাট মূলত বৃষ্টিনির্ভর ফসল মৌসুমের শুরুতে এবার বৃষ্টি হয়নি। তখন পাটগাছের বৃদ্ধি কিছুটা কম হয়েছে। পাট কাটার সময় প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় পাট জাগ দিতে তেমন কোন সমস্যা হয়নি, এতে পরিবহন ব্যয়ও সাশ্রয় হয়েছে। সব মিলিয়ে এবার পাট চাষে খরচ অনেক কম হয়েছে। গত বছর পানির জন্য পাট জাগ দিতে পারিনি। পাট চাষের মাঝামাঝি সময় তীব্র খরা হওয়ায় চাষ হওয়া পাটের পাতা শুকিয়ে যাচ্ছিল। এবছর আবহাওয়াতে বৃষ্টিপাত ভালো হওয়ায় কৃষকদের পাট পঁচানো ও আশ ছড়াতে সমস্যা হচ্ছে না। ইতোমধ্যেই আবাদকৃত ৮০ ভাগ জমির পাট কর্তন শেষ। গতবারের তুলনায় এবার পাটের দাম রয়েছে বেশি, চুকনগর বাজারের পাট ব্যবসায়ী আবদুল গফুর বলেন গত বছর পাটের দাম ছিল প্রতি মণ ১ হাজার থেকে ১৫০০শ’ টাকা,এবার সেই পাটের দাম এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫০০শ`থেকে ২ হাজার ৭০০শত টাকায়।

 

চুকনগর দক্ষিণ গোবিন্দ কাঠি গ্রামের কৃষক শেখ আসাবুর রহমান বলেন তিনি দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন, বিঘা প্রতি তার খরচ হয়েছে ৭০০০টাকা তিনি বিঘাপ্রতি পাট পেয়েছেন ১০মন এখন বিক্রি করছে গড়পাট ২৫০০শ’ টাকা আর লালি পাঠ ২৭০০শ’ টাকা।

চুকনগরের কৃষক মেহেদী হাসান বাবলু বলেন দুই বিঘা জমিতে পাট লাগিয়েছেন, বিঘা প্রতি জমিতে ১০ থেকে ১২ মণ পাট সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে। বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ৫০০০টাকা থেকে ৭০০০টাকা আর বিঘা প্রতি পাটকাঠি হয় ৮০ থেকে ৯০ আটি। যার প্রতি আটির দাম ৫০থেকে ৬০ টাকা। কৃষকরা যেমন সোনালী আর পাট বিক্রি করে দাম পাচ্ছেন ভালো তেমন পাটের পাটকাঠি বিক্রি করেও দাম পাচ্ছেন ভালো।

ডুমুরিয়ার মাগুরাঘোনার বেতাগ্রামের কৃষক মনো গোলদার বলেন তিনি ৭বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন এবার কৃষকরা বেশি চাষাবাদ করেছে এন,এস,সি,বি,এ,ডিসি-১ ,আর, মহারাষ্ট্র,আই-৮ জাতের পাট। এর জীবনকাল একশ’ থেকে একশ’ ১০ দিন। তিনি বলেন আর কিছু দিন পাটের দাম এমন থাকলেই হবে। কৃষকের কষ্ট কেউ বোঝে না ভাই। দেখা যাবে ক’দিন পরই দাম কমে গেছে। তাইতো তাড়াতাড়ি করে পাট বিক্রি করে দিচ্ছি।

 

ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোসাদ্দেক হোসেন বলেন ,গেল বছর ডুমুরিয়াতে ৮২০হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছিল , এবছর পাট চাষ করেছে ডুমুরিয়াতে ৭৬০হেক্টর জমিতে পাট চাষ করেছেন চাষিরা, গেল বছরের থেকে ৪০হেক্টর পাট চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে ,গেল বছর পাট চাষীদের সংখ্যা ছিল ৩হাজার ,এবছর পাট চাষ করেছে ৭হাজার কৃষক। গেল বছর থেকে এ বছর ৪হাজার কৃষক পাট চাষ করেছে বেশি , এবছর গেল বছরের তুলনায় পাটের দাম একটু বেশি। গেল বছর পাটের দাম ছিল শুরুতে ১৫০০ থেকে ২২০০ টাকা পর্যন্ত এবছর পাটের দাম ২৫০০শত টাকা থেকে ২৭০০টাকা পর্যন্ত, পাটের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা খুশি, এবছর কৃষকরা পাটের ভালো দাম পাওয়ায় আগামী বছর পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ আরো বাড়বে পাট দিয়ে পলি ব্যাগের আদলে দেশে ব্যাগ বানানোর প্রক্রিয়া ও চলছে। তিনি আরো বলেন, পাটের মান ভালো রাখার জন্য প্রবাহমান এবং পরিষ্কার পানিতে পঁচানোর জন্য কৃষকদের বলা হচ্ছে। সাথে সাথে সেখানে কয়েক কেজি ইউরিয়া সারও ছিটিয়ে দিতে বলা হয়েছে । পচানোর ক্ষেত্রে গাছের পাতা বা কাদা মাটি এড়িয়ে চলায় ভালো।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি