২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৭ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

চুকনগরে মিথ্যা মামলায় ব্যবসায়ীকে হয়রানীর অভিযোগ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

 

সরদার বাদশা ,নিজস্ব প্রতিনিধি।

 

 

চুকনগরে বাদশা ট্রেডার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সরদার বাদশা(৩০)কে মিথ্যা মামলায় হয়রানী করার অভিযোগ করেছে তিনি। এই সংশয়ে তার নামে মামলা করার আগেই ডুমুরিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

সরদার বাদশা জানায়, ডুমুরিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চুকনগর বাজারে বাদশা ট্রেডার্স নামে তার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৫ সাল থেকে বেশ শুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানে ফ্রিজ, টিভি, রাইস কুকার, পেশার কুকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও স্টিলের খাট, শোকেস, আলমারিসহ ফার্নিচার সামগ্রী নগত ও কিস্তিতে বিক্রয় করা হয়। কিন্তু আজিদা বেগম(৪০) নামে এক মহিলার কাছে বাকীতে মাল বিক্রয় করেন তিনি। আজিদা বেগম বিক্রয়ের পাওনা টাকা দিতে অস্বীকার করায় তিনি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আসামী মামলা তুলে নেয়ার জন্য তাকে বিভিন্ন সময় অপমান-অপদস্ত, মারপিট এমনকি হত্যা হুমকি প্রদান করে। কিন্তু তিনি মামলা প্রত্যাহার না করায় পরিকল্পিতভাবে গত ৯অক্টোবর রাত ৮টার দিকে বাদশা মটরস এ ব্যাটারি ক্রয় করতে আসে তারা। এসময় বিবাদী একই উপজেলার নরনিয়া গ্রামের মফিজুর রহমান ও আবু তাহেরসহ ২/৩জনকে সাথে নিয়ে রুমের ভিতরে প্রবেশ করেই তাকে গুম ও হত্যার হুমকী দেয়। যার ভিডিও ফুটেজ এখনো দোকানে সংরক্ষিত আছে। বিষয়টি তিনি ডুমুরিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ওবাইদুর রহমান ও আটলিয়া ইউনিয়নে বিট উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমানকে জানান।

১০অক্টোবর দুপুর ২টার দিকে একই কথা বলে (ব্যাটারী ক্রয়ের টাকা দেয়ার কথা বলে) মফিজুর রহমান তাকে ডুমুরিয়া মাহেন্দ্রা ষ্ট্যান্ডে আসতে বলে। তখন তিনি আসামীদের পরিকল্পনার বিষয় বুঝতে না পেরে মাহেন্দ্রা ষ্ট্যান্ডে আসেন। এসময় জোরপূর্বক তাকে মাহেন্দ্রায় তুলে খুলনা অভিমুখে নিয়ে যেতে থাকে তারা। জোরপূর্বক তাকে মাহেন্দ্রায় তুলে নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে এলোপাতাড়ী পিটাতে থাকে তারা। তার কাছে থাকা ১লক্ষ ২৫হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে জীবন বাঁচানোর তাগিদে বাজারের রেষ্ট্রি অফিসের সামনে মাহেন্দ্র থেকে লাফিয়ে পড়ে তিনি দৌঁড় দেয়ার চেষ্টা করলে বিবাদী আজিদা বেগম (৪০), মফিজুর রহমান (৩৮) আবু তাহের(৩৬) ও রানী বেগম (৩৫)সহ ১০/১২জন তাকে বেদম মারপিট করে নিশ্চিত মৃত জেনে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

বিষয়টি স্থানীয়রা ওসি ওবাইদুর রহমানকে জানালে থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এঘটনায় তিনি সুস্থ হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। যা বর্তমানে পিবিআইতে তদন্তে আছে। মামলার পর আবারও তারা হুমকী ধামকী দিতে থাকে। এঘটনায় তিনি ১২অক্টোবর ডুমুরিয়া থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করেন। এতে তারা তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে এবং ২১অক্টোবর আজিদা বেগম বাদী হয়ে তার নামে আদালতে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা দায়ের করে। যে মামলাটির তদন্ত ডুমুরিয়া থানাকে দেয়া হয়েছে। ইতিপূর্বেও তার নামে রানী বেগম নামে এক মহিলা বাদী হয়ে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা দায়ের করেন। পিবিআই তদন্তে যার কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। ফলে সে মামলা থেকেও তাকে অব্যহতি দেয়া হয়। এসব কারণে বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিনাতিপাত করছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।