১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

চাঁদপুরে চালক নিহতদের ঘটনায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ, বাস চলাচল বন্ধ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মোঃ রিফাত পাটোয়ারী চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

 

চালক নিহতের ঘটনায় চাঁদপুর থেকে সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে পরিবহন শ্রমিকরা। শ্রমিক নেতাদের অবহেলা এবং চিকিৎসায় ত্রুটি ছিল বলে বাসচালক মিজান মারা গেছে অভিযোগে করে ৬ সেপ্টেম্বর সোমবার ভোর ৫টা থেকে বাস চলাচল বন্ধ রাখে তারা।

এই ঘটনায় বাস চলাচল বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা। তারা পৌর বাস টার্মিনালের কিছু অংশ ভাঙচুর করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

 

পুলিশ ও বাস চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৫ সেপ্টেম্বর রোববার চাঁদপুর সদরের চাঁদখার বাজার এলাকায় পদ্মা বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে এক শিশু নিহতসহ আহত হয় বাসের ১০ যাত্রী। গুরুতর আহত হয় বাসের চালক মিজান মোল্লা (৩৫)। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়। ওই দিন রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিজান মারা যায়।

 

এই ঘটনায় শ্রমিক নেতারা নিহত বাস চালক মিজানকে এক নজর দেখতে যায়নি। শুধু তাই নয়, চালক মিজান মোল্লার জানাজাতেও তারা ছিলেন না। এতে করে বিনা চিকিৎসায় চালকের মৃত্যু এবং চাঁদপুর পৌর বাস টার্মিনালে অবকাঠামো সমস্যাসহ পরিবহন নেতাদের পদত্যাগ ও দাবি-দাওয়া আদায়ে বাস চলাচল বন্ধ রেখে বিক্ষোভ শুরু করে বাসশ্রমিকরা।

 

এদিকে সোমবার ভোর ৫টা থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই সুযোগে সিএনজি, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারসহ অন্যান্য যানবাহনের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে চালকরা। সমস্যা সমাধানে বাস মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন পুলিশ প্রশাসন।

 

বাসচালক মমিন বেপারী ও ইসহাক বলেন, শ্রমিকদের উন্নয়নে পরিবহন ও মালিক সমিতি। আমাদের এক চালক ভাই দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ঢাকায় বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে। তার কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি পরিবহন নেতারা। এমনকি তার জানাজায়ও আসেনি তারা। তাদের কারণে পৌর বাস টার্মিনালের কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। তারা আমাদের কষ্টের টাকা আত্মসাৎ করছে। মিজানের মতো অনেকেই বিনা চিকিৎসা এবং সহযোগিতার অভাবে মারা গেছে। আমরা পরিবহন নেতাদের পদত্যাগ দাবি করছি। আমাদের সকল দাবি-দাওয়া মেনে না নিলে আমাদের বিক্ষোভ চলবে।

 

চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ বলেন, বাস দুর্ঘটনায় এক চালক নিহত হওয়ার ঘটনায় শ্রমিকরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোভ ও বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে। তাদের অভিযোগ, বিনা চিকিৎসা ও সহযোগিতার অভাবে চালক মিজান মারা গেছে। আমরা পরিবহন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি, যাতে দ্রুত এটি সমাধান করা হয়।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি