১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।রবিবার

চট্টগ্রামসহ ফেনী’তে দালাল ও প্রতারক চক্রের ৩৪ জন গ্রেপ্তার।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সুমনসেন চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি-

 

 

র‌্যাব-৭ এর অভিযানে চট্টগ্রামের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) আঞ্চলিক কার্যালয় ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ফেনী জেলার ফেনী সদর থানাধীন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল এলাকায় দালাল ও প্রতারক চক্রের ৩৪ সদস্যকে জরিমানা ও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

 

 

র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সমাজের বিভিন্ন অপরাধ এর উৎস উদ্ঘাটন, অপরাধীদের গ্রেফতারসহ আইন শৃংখলার সামগ্রিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। র‌্যাবের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ধর্ষক, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, ডাকাত, খুনি, বিপুল পরিমান অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, মাদক উদ্ধার, ছিনতাইকারী, অপহরণকারী, মানবপাচারকারী ও প্রতারকদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগনের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

 

 

 

অদ্য ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ইং তারিখে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে দালাল ও প্রতারক চক্রের ৩৪ সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম। নিম্নে বিস্তারিত উল্লেখ করা হলোঃ

 

 

র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপার্ট অথরিটি (বিআরটিএ) এর আঞ্চলিক কার্যালয়, চট্টগ্রাম এ দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ গ্রাহকদের বিভিন্ন প্রয়োজন যেমনঃ শিক্ষানবীশ ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু, ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন, মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন, মালিকানা বদলী, রুট পারমিট ইস্যু ও নবায়ন, ফিটনেস নবায়ন করার নাম করে এক শ্রেণির দালাল ও প্রতারক চক্র সরকার ঘোষিত নির্ধারিত ফি এর অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে অদ্য ০৫ আগস্ট ২০২১ ইং তারিখ র‌্যাব-৭ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল বর্ণিত স্থানে অভিযান পরিচালনা করে আসামি ১। সায়েদ, ২। মোঃ জসিম, ৩। মোহাম্মদ রাসেদ, ৪। মোহাম্মদ তৈয়ব আলী, ৫। মোহাম্মদ ফারুক, ৬। মোঃ মোজাম্মেল হক, ৭। মোঃ মিনহাজ উদ্দিন, ৮। অমল বিশ^াস, ৯। আমিনুল ইসলাম, ১০। আলী আজম, ১১। মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, ১২। মোঃ ইসমাইল, ১৩। বিজয় নাথ, ১৪। মোঃ কাসেম চৌধুরী, ১৫। মোহাম্মদ সেলি, ১৬। মোঃ শাহাদাত হোসেন, ১৭। মোঃ ফারুক, ১৮। মোহাম্মদ শাফায়েত, ১৯। সাজ্জাদ হোসেন, ২০। মোখছেদুল আলম, ২১। মোঃ আকবর হোসেন’কে আটক করা হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, তারা বিআরটিএ আঞ্চলিক কার্যালয়ে আসা গ্রাহকদের বিভিন্ন সমস্যা অতি দ্রæত সমাধানের নাম করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও অর্থ নিয়ে পলায়নসহ বিভিন্ন প্রতারণার মাধ্যমে ভোগান্তি সৃষ্টি করে আসছে। উল্লেখিত দালাল ও প্রতারক চক্র সদস্যদের মধ্যে ২০ জনকে ১,৬০,৫০০ টাকা জরিমানা এবং একজনকে ০৩ দিনের কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

 

অপর একটি তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম জানতে পারে যে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির দালাল ও প্রতারক চক্র অসাধুভাবে যেমনঃ ন্যায্যমূল্যে ঔষধ কেনার নামে বেশী দামে ঔষধ ক্রয়, ¯িøপ কেড়ে নিয়ে চার পাঁচ গুণ বেশি দামে ঔষধ ক্রয়, সুকৌশলে তাদের পছন্দমত ল্যাবে পাঠিয়ে দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে অদ্য ০৫ আগস্ট ২০২১ ইং তারিখ র‌্যাব-৭ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল বর্ণিত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতারকৃত আসামী ১। মোঃ ইকবাল মিয়া, ২। বাদল দাস, ৩। মোঃ সালাউদ্দিন, ৪। মোঃ রাসেল হোসেন, ৫। মোঃ আবুজাফর’কে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড প্রদান করা হয় ও ৬। ইসতিয়াক মোহাম্মদ ফরহাদ এবং ৭। মোঃ মোমিন’কে মোট ৪০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

 

একটি তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম জানতে পারে যে, ফেনী জেলার ফেনী সদর থানাধীন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল এলাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির দালাল ও প্রতারক চক্র অসাধুভাবে যেমনঃ ন্যায্যমূল্যে ঔষধ কেনার নামে বেশী দামে ঔষধ ক্রয় এর স্লিপ কেড়ে নিয়ে চার পাঁচ গুণ বেশি দামে ঔষধ ক্রয়, সুকৌশলে তাদের পছন্দমত ল্যাবে পাঠিয়ে দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে অদ্য ০৫ আগস্ট ২০২১ ইং তারিখ র‌্যাব-৭ এর একটি আভিযানিক দল বর্ণিত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতারকৃত আসামী ১। সাইফুল ইসলাম, ২। তরুন শর্মা, ৩। মোঃ রফিকুল ইসলাম, ৪। প্রশান্ত কুমার সেন, ৫। ফিরোজ হোসেন এবং ৬। মমিনুল হক’দেরকে ১,২০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

 

দালাল ও প্রতারক চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের এই ধরনের অভিযানে সাধারণ জনগণ স্বস্তি প্রকাশ করেছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি