১৭ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।২রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।বুধবার

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ময়দার বৈশ্বিক বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মহামারীর প্রভাব কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ময়দার বৈশ্বিক বাণিজ্য। ২০২১-২২ মৌসুমে গমজাত পণ্যটির বাণিজ্য চলতি মৌসুমের তুলনায় ৭ শতাংশ বাড়তে পারে। সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইন কাউন্সিল (আইজিসি) কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ময়দার বৈশ্বিক বিপণন মৌসুম শুরু হবে ১ অক্টোবর। আগামী বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর এ মৌসুম শেষ হবে। আসন্ন ২০২১-২২ মৌসুমে সব মিলিয়ে ১ কোটি ৪৯ লাখ টন ময়দা বিশ্ববাজারে জাহাজীকরণ হবে বলে জানিয়েছে আইজিসি। এপ্রিলে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় জাহাজীকরণের পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকবে। তবে চলতি ২০২০-২১ মৌসুমের তুলনায় বৈশ্বিক জাহাজীকরণের পরিমাণ বাড়বে। চলতি মৌসুমে ১ কোটি ৩৯ লাখ টন জাহাজীকরণের প্রাক্কলন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আইজিসি জানায়, করোনা মহামারীর প্রভাবে চলতি মৌসুমে ময়দার বৈশ্বিক বাণিজ্যে ধস নেমেছে। চলতি মৌসুমের পূর্বাভাস সত্য হলে এটি হবে ২০১৩-১৪ মৌসুমের পর ময়দার বৈশ্বিক বাণিজ্যের সর্বনিম্ন রেকর্ড। ওই মৌসুমে পণ্যটির বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৩২ লাখ টন। চলতি মৌসুমে ময়দার বৈশ্বিক বাণিজ্য ২০১৯-২০ মৌসুমের তুলনায় ৫ শতাংশ কমতে পারে। ওই মৌসুমে জাহাজীকরণ হয়েছিল ১ কোটি ৪৭ লাখ টন।

আইজিসি জানায়, করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বজুড়ে কনটেইনার সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। অন্যদিকে ক্রমাগত বাড়তে থাকে জাহাজীকরণ ব্যয়। এ কারণে চলতি মৌসুমে ময়দার বৈশ্বিক বাণিজ্যে ধস নামে। তবে নতুন মৌসুমে এসব প্রতিবন্ধকতা কেটে পণ্যটির বিশ্ব বাণিজ্য ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আইজিসির হিসাব অনুযায়ী আসন্ন মৌসুমে পণ্যটির বৈশ্বিক বাণিজ্য ৭ শতাংশ বাড়বে।

বিশ্বের শীর্ষ ময়দা আমদানিকারক দেশ ইরাক। চলতি মৌসুমে দেশটিতে গমের আবাদ নিম্নমুখী। আগামী মৌসুমেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। ফলে ময়দা আমদানি ধারাবাহিকভাবে বাড়াচ্ছে ইরাক। ২০২১-২২ মৌসুমে ইরাকের ময়দা আমদানি ছয় লাখ টন বেড়ে ২৭ লাখ টনে উন্নীত হবে। অন্যান্য শীর্ষ আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তানের ময়দা আমদানি এক লাখ টন কমে ১৯ লাখ টনে নেমে আসবে। তবে তৃতীয় শীর্ষ আমদানিকারক সিরিয়ার আমদানি বেড়ে দেড় লাখ টনে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ২০২১-২২ মৌসুমে ময়দা রফতানিতে বিশ্বের নেতৃস্থানীয় থাকবে তুরস্ক। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটির ময়দা বাণিজ্য কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তবে আগামী মৌসুমে প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে দেশটির বাণিজ্য চাঙ্গা হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করছে আইজিসি। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মৌসুমে তুরস্ক ৫০ লাখ টন ময়দা বিশ্ববাজারে রফতানি করবে। ২০১৭-১৮ বিপণন মৌসুমের পর এটিই হবে দেশটির সর্বোচ্চ রফতানি। ওই মৌসুমে দেশটি ৫৪ লাখ টন ময়দা রফতানি করেছিল।

এদিকে কাজখস্তানের ময়দা রফতানি হ্রাসের পূর্বাভাস দিয়েছে আইজিসি। বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ রফতানিকারক দেশটি চলতি মৌসুমে সব মিলিয়ে ২৫ লাখ টন ময়দা রফতানি করতে সক্ষম হবে। তবে আগামী মৌসুমে রফতানির পরিমাণ কমে ২৩ লাখ টনে নেমে আসতে পারে। দেশীয় সরবরাহ সংকটের কারণে রফতানি কমিয়ে আনবে দেশটি। অন্যান্য শীর্ষ রফতানিকারক দেশের মধ্যে আর্জেন্টিনা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং মিসরের ময়দা রফতানিতে প্রবৃদ্ধি আসবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।