২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।মঙ্গলবার

খুলনার কয়রায় খ্রিস্টান এসোসিয়েশনের সভাপতির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ সহ নানান দূর্নিতির অভিযোগে মামলা।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

 খুলনার কয়রায় খ্রিস্টান এসোসিয়েশনের উপজেলা সভাপতি খোকন মণ্ডলের বিরুদ্ধে নামে বেনামে বিভিন্ন ফাউন্ডেশন, সমবায় সমিতি, গির্জা দেখিয়ে ও চাকরী দেওয়ার নামে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন দূর্নিতির অভিযোগে বিভিন্ন মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী হয়েছে। 

 স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, কয়রার সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা খোকন মণ্ডল, পিতা- মৃত গুনধর মণ্ডল (ঋষি),  সাং- মদিনাবাদ, উপজেলা – কয়রা, জেলা- খুলনা। সে নিজেকে এনজিও কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে (১) দীপ্ত উন্নয়ন ফাউণ্ডেশন, (২) হোসান্না শ্রমজীবী সমবায় সমিতি, (৩) সহানুভূতি শ্রমজীবী সমবায় সমিতি, (৪) অঙ্কুর শ্রমজীবী সমবায় সমিতি ও (৫) সোস্যাল কনসার্ন কোঅপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড নাম করণ করে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবণের ২য় তলায় ১০৩ নং রুম ভাড়া নিয়ে বিলাসবহুল অফিস কক্ষে এই সকল সমিতির মাধ্যমে সদস্য ভর্তি করে উপজেলার গরীব সাধারন কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের নিকট থেকে ঋণ দেওয়ার নাম করে মোটা অংকের টাকা সঞ্চয় জমা হলে আইন বহির্ভূত ভাবে সমিতির নাম পরিবর্তন করে আবারো সঞ্চয় জমা নিয়ে ঋণ দেওয়ার কথা বলে অলিখিত ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে ঋণ না দিয়ে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে। 

কয়রা মদিনাবাদ সরকারী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উদয় মণ্ডল বলেন, খোকন মণ্ডল সমিতিতে চাকরী দেওয়ার নাম করে আমার ভাগিনে সুব্রত বাউলিয়াসহ এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবক- যুবতীদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে চাকরী না দিয়ে বর্তমানে পালাতক আছে।

বাগালী ইউনিয়নের সমাজ সেবক ডাঃ পতিত পাবন মণ্ডল বলেন, পালাতক খোকন মণ্ডল নিজেকে খ্রিস্টান এসোসিয়েশনের উপজেলা সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে খ্রিস্টান এসোসিয়েশনের কমিটি করে হত- দরিদ্র হিন্দু মুসলিমদের জমি, ঘর এবং মোটা অংকের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে খ্রিস্টান ধর্মে কনভার্ট করা সহ খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বড় দিনে (২৫ ডিসেম্বর)  অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য উপজেলায় মাত্র ৩/৪ টি অচল গির্জা থাকলেও ১৫/২০ টি সচল গির্জা (চার্চ) দেখিয়ে সরকারি ও বিভিন্ন সাহায্যকারী প্রতিষ্ঠান থেকে মোটা অংকের টাকা সহ অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে। আর এই অনিয়ম – দূর্নিতির কাজে তার সাথে থেকে তাকে সহযোগিতা করে আসছে তার আপন ভাই মনোরঞ্জন মণ্ডল ( ঋষি) ও তার ছেলে সবুজ মণ্ডল (ঋষি)। 
এছাড়া জমি-জমাসহ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েদের প্রতারণার অভিযোগ আছে সবুজ মণ্ডলের বিরুদ্ধে ।
এ বিষয়ে কয়রা থানা ও কয়রা জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কোটের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যাক্তি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। যার নং- জি আর- ২৫৬/১০ (আশাশুনি), সি আর ১২৭/২২ (কয়রা), এম আর- ৭০/২২ (কয়রা), এম আর ২৭৮/২১ (কয়রা), সি আর- ৭৩০/২২ (কয়রা), সি আর- ৪৯৭/২২ (কয়রা), দ্রুত সি আর- ৫/২৩ (খুলনা) সহজ অনেক মামলায় গ্রেফতারী ওয়ারেন্টের আসামী তিনি।
তাই প্রসিডিওর কোড ১৯৯৮ এর ৮৭/৮৮ ধারার বিধান মোতাবেক ও সি আর – ৫/২৩ খুলনার দ্রুত বিচার আইনের ৬ ধারায় গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী হওয়ায় তিনি পালাতক বা আত্মগোপনে রহিয়াছেন।
তাই উক্ত কোডের ৩৩৯ বিষয় (১) ধারার বিধান মতে তাহাকে উল্লেখিত মামলায় বিচারের জন্য এই আদেশ জারী হইবার ১০ (দেশ) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হইবার নির্দেশ দেওয়া গেল। অন্যথায় তাহার অনুপস্থিতিতে বিচারকার্য সম্পন্ন হইবে। যাহার তারিখ ঃ ২২/১১/২৩ খ্রিঃ, স্মারক নং- ৪৬৫৩।

কয়রা, খুলনা প্রতিনিধি 
তারিখ ঃ ০২/১২/২৩ ইং।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি