১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।বৃহস্পতিবার

কোরবানির কারণে ভয়ানক পরিবেশ দূষণ হয় – শাহরিয়ার কবির

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

আরাফাত হুসাইনের প্রতিবেদন –

কোরবানিকে পরিবেশ দূষণের কারণ হিসেবে উল্লেখ করে কোরবানি ও কোরবানি পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করার দাবি জানিয়েছে শাহরিয়ার কবির। পাশাপাশি পার্ক-খেলার মাঠ ও রাস্তার পাশে কোরবানির হাট না বসানোরও জোর দাবি জানিয়েছে শাহরিয়ার কবির। গত শনিবার দুপুরে পবা কার্যালয়ে এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব দাবি জানানো হয়।

আলোচকরা বলেন, প্রতিবছর সারা দেশে গরু, মহিষ, ভেড়া, খাসি ইত্যাদি প্রায় এক কোটি ২০ লাখ পশু ঈদে জবাই করা হয়। ঢাকা মহানগরীসহ দেশের সর্বত্র ঈদের দিন বা পরের দিন যত্রতত্র বিপুলসংখ্যক কোরবানির পশু জবাই করা হয়। জবাইকৃত পশুর বর্জ্য-রক্ত, নাড়িভুড়ি, গোবর, হাড়, খুর, শিংসহ উচ্ছিষ্টের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও জনসচেতনার অভাবে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়সহ জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

বক্তারা আরও বলেন, কোরবানির জন্য নির্ধারিত স্থান থাকা ও জায়গাটি স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া। কোরবানির পশুটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পশুটি রোগমুক্ত ও কোরবানির উপযুক্ত কিনা সেটাও পরীক্ষা করা। এর ফলে দুর্গন্ধ ছড়ানো, রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটা, পশুর চামড়া বিনষ্ট হওয়া ইত্যদির ভয় থাকে না। বর্জ্যের ব্যবস্থাপনা এবং এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।

আলোচকরা জানান, পরিবেশসম্মত কোরবানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে সরকার কিছু স্থানকে কোরবানির জন্য নির্ধারিত করে দেয়। কিন্তু এরপরও বর্র্জ্য ব্যবস্থাপনার কোন স্থায়ী উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায় না।

এ অবস্থায় বেশকিছু সুপারিশ করেছে পবা। সুপারিশগুলো হলো— কোরবানি পশু উৎপাদন প্রক্রিয়ার স্থান নিয়মিত পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ডাক্তার দিয়ে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা; বড় রাস্তার পাশে, পার্ক-খেলার মাঠে কিছুতেই কোরবানি পশুর হাট না বসানো; কোরবানির জন্য পর্যাপ্ত নির্ধারিত স্থান রাখা; ডাক্তার, জবাইয়ের জন্য দক্ষ লোক, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কসাই, পর্যাপ্ত পানি ও যানবাহনসহ যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা; প্রতিটি সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদে জনসংখ্যা অনুপাতে পশু জবাইয়ের জন্য প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করা।

পবা চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন পবা’র সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী, নাসফের সাধারণ সম্পাদক তৈয়ব আলী, পবার সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল, এম এ ওয়াহেদ, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামন মজুমদার, সাউথ-ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক জোবাইদা গুলশান আরা, নাসফের প্রচার সম্পাদক ক্যামেলিয়া চৌধুরী, বিসিএইচআরডির পরিচালক মো. মমতাজুর রহমান মোহন, পবার সদস্য দিনা খাদিজা, মোসতারি বেগম, কানিজ ফাতেমা, মো. আকবর, মো. ইব্রাহিম প্রমুখ।

সামি/যুবকন্ঠ২৪/১৯

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি