১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

কেরোসিন ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির সাথে ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে ডাকা ধর্মঘটে বাগেরহাটের সকল রুটে জণদূর্ভোগ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

মোঃ আনিসুর রহমান, বাগেরহাট প্রতিনিধি।

জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে পরিবহণের ভাড়া বাড়িয়ে নির্ধারণের দাবীতে ডকাকা ধর্মঘট সফলভাবে পালিত হচ্ছে বাগেরহাটের সকল রুটে। এই ধর্মঘটে সবচেয়ে বেশি পালিত হচ্ছে মোংলায়।ধর্মঘটের ফলে জেলার সকল রুটে যাত্রীবাহী বাস এবং পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে।গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে বাগেরহাট-খুলনা,বাগেরহাট-ঢাকা, মোংলা থেকে ঢাকা-চট্রগ্রাম, মোংলা-খুলনা, মোংলা-বাগেরহাট-বরিশালসহ সকল রুটে বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছে মালিক-শ্রমিকেরা। ফলে মোংলা বন্দর থেকে ভিন্ন পরিবহণে বিকল্প ব্যবস্থায় বাগেরহাট-খুলনা যেতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া, এতে ক্ষুব্দ সাধারণ যাত্রীরা,একশ টাকার ভাড়ার পরবিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের ঘুনতে হচ্ছে তিনশ থেকে চারশ টাকা।

অপরদিকে বন্ধ রয়েছে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলও। মোংলা বন্দরের জেটির সম্মুখে ও দিগরাজ শিল্প এলাকার বিভিন্ন মিল-কলকারখানার সামনে সব সময় শত শত ট্রাকের জটলা থাকলেও শুক্রবার ও শনিবার সেসব জায়গা একেবারে ফাঁকা রয়েছে। পরিবহণ চলাচল বন্ধের কারণে তারা পণ্য পরিবহণ বন্ধ রেখেছেন। তাদের দাবী, তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, এতে তাদেরও খরচ বাড়বে। তাই সরকার পরিবহণ ভাড়া নির্ধারণ করে না দেওয়া পর্যন্ত তাদের এ পরিবহণ ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।

এদিকে ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় মোংলা বন্দর জেটি, ইপিজেড ও শিল্প এলাকার তেল, গ্যাস, সিমেন্টসহ বিভিন্ন ফ্যাক্টরীর পণ্য এবং কাঁচামাল পরিবহণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। বসে থেকে আর্থিক ক্ষতিতে পরিবহণ মালিক – শ্রমিকেরাও।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক বিভাগ জানায়, পণ্য পরিবহণ বন্ধ থাকাটা সারাদেশেরই সমস্যা। ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় আমদানীকারকের তাদের মালামাল বন্দর জেটি থেকে পরিবহণ করতে পারছেন না। জেটি থেকে সড়ক পথে পণ্য পরিবহণ বন্ধ থাকলেও জেটির অভ্যন্তরে লোড আনলোডের কাজ চলছে।

মোংলা ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক বলেন, ইপিজেডের ফ্যাক্টরীগুলোর কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য মোংলা বন্দর ও বেনাপোল বন্দর দিয়েই পরিবহণ হয়ে থাকে। সেই ক্ষেত্রে পরিবহণ ধর্মঘটের প্রভাব এখানেও পড়ছে।তবে তেলের দাম বৃদ্ধির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল।জনসাধারণের মনেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে জ্বালানি তেলের এই মূল্য বৃদ্ধি।

 

 

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।

অররবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আসাদুল ইসলাম (১৯) নামে কয়রার এক কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে। আমাদী জায়গীমহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদুলের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কলেজছাত্র আসাদুল। কিন্তু প্রেমিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজছাত্রের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানতাম। মেয়েটির সঙ্গে কয়েকবার দেখাও করেছেন তিনি। পরে ঐ মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আসাদুল তার পরিবারকে জানান। তার পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি মেয়েটি রাজি হয়নি। হয়তো সেই দুঃখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কয়রা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, কলেজছাত্রটি আলাদা ঘরে থাকতেন। সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তার সোজাসুজি রাখা ভিডিও কল চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অপর প্রান্তে থাকা কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কয়রার যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।