২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।শনিবার

কুলাউড়ায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের প্রস্তাবিত স্থান নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

কুলাউড়ায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের প্রস্তাবিত স্থান নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়

মো: রেজাউল ইসলাম শাফি, কুলাউড়া উপজেলা প্রতিনিধিঃ

বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় সরকার ঘোষিত শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পের ২য় ধাপ চলমান রয়েছে। ১ম পর্যায়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের ১২৫ টি উপজেলায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ২০১৯ সালের জুন মাসে। গত ৪ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ২য় ধাপে অনুমোদন পায় দেশের ১৮৬টি উপজেলায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ষোলশত কোটি টাকা। ২য় ধাপে ১৮৬টি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের এই প্রকল্পতে অন্তর্ভুক্ত আছে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলা।

সরকার ঘোষিত শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গত ২২ আগস্ট কুলাউড়ায় প্রস্তাবিত স্থান ভূকশিমইল ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড কানেহাত গ্রামস্থ টেকারবন মাঠ পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজল মোল্লা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রেনু ও পৌরসভার মেয়র সিপার উদ্দিন আহমদ সহ আরো প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। প্রস্তাবিত স্থান ভূকশিমইল পরিদর্শনের পরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমত ঝড় তুলেছেন কুলাউড়া উপজেলার নাগরিকরা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে লিখেছেন, পৌরসভা রেখে হাওর অঞ্চলের দিকে স্টেডিয়ামটি করার যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছেন না তারা। উপজেলার অনেক খেলোয়াড়দের মতে শহরের আশেপাশে স্টেডিয়ামটি করা হলে সবাই প্র্যাক্টিসের সুযোগ পাবে। স্টেডিয়ামটি শহরে হলে যাতায়াতের অনেক সুবিধা পাওয়া যাবে। এছাড়াও শহর এলাকা উন্নত থাকায় বর্ষাকালেও মাঠের অবস্থা ততোটা নাজেহাল হবে না বলে অনেকে মনে করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ বিষয় নিয়ে দন্ধ চলছেই।

১৩ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভার মানুষের দাবি তাদের ইউনিয়নে কেন স্টেডিয়ামটি হবে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পৌরসভা ও ইউনিয়নের মানুষ স্ট্যাটাস মাধ্যমে মতামত তুলে ধরেছেন। কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান এ.কে.এম সফি আহমদ সলমান সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিবৃতিতে জানান,”কুলাউড়া উপজেলায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য আমরা ইতোপূর্বে কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের রেজুলেশনের মাধ্যমে কাদিপুর ইউনিয়নের হ্যালিপ্যাড এর জায়গায় স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকারের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করি। এ ব্যাপারে এখনো কোন চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় বিকল্প হিসাবে লোহাইউনি চা বাগানের নিকটবর্তী সড়ক সংলগ্ন ৪ একর জমি প্রাথমিক ভাবে চিন্হিত করে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের জন্য সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। এ ব্যাপারে যাচাই-বাছাই চলছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ফেইসবুকে বিভিন্ন জনের পোষ্ট দেখে মনে হচ্ছে কুলাউড়া উপজেলা শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামটির সিদ্ধান্ত উপজেলা পরিষদ ব্যতিত কোন ব্যক্তি বিশেষের দ্বারা গৃহিত হবে। আদৌ এ ধরণের চিন্তা বা সিদ্ধান্ত বা মনগড়া ফেইসবুক পোষ্ট থেকে বিরত থাকতে সংশিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে। বাস্তবে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামটি সকল মহলের সুবিধা যেখানে হবে সেখানেই নির্মাণ করা হবে।

কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিবৃতিতে জানান, “এখনও কোন সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত হয়নি। দয়া করে কোন বিতর্ক সৃষ্টি করবেন না। চেষ্টা করা হচ্ছে শহরের আশপাশে স্টেডিয়াম নির্মাণ করার। তবে বাস্তবতা হচ্ছে শহরের পাশে মিনি স্টেডিয়াম করার মতো কোন জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ কোন উত্তম জায়গার খবর পেলে আমাদেরকে জানাবেন। আসুন সবাই মিলে চেষ্টা করি।”

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি