১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

কালীগঞ্জে ৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন-২০২১।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ:

লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৪শত ৮৫জনের মনোনয়নপত্র জমা হয়েছে। তন্মধ্যে ৮টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৫৩জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১শত ৭জন, সাধারণ সদস্য পদে ৩শত ২৪জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। এদিকে ১জন চেয়ারম্যান, ১জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও ৮জন সাধারণ সদস্য প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বিভিন্ন কারণে বাদ পড়েছে।

 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৮জন প্রার্থী ৮টি ইউনিয়নে মনোনয়ন পেলেও দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ৮জন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী রয়েছেন ৫টি ইউনিয়নে ৫জন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোটমারী ইউনিয়ন বাদে সব কটি ইউনিয়নে প্রার্থী রয়েছে। চন্দ্রপুর ইউনিয়নে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও কাকিনা ইউনিয়নে এনপিপি’র প্রার্থী রয়েছে ১জন করে। বাদ বাকী সবাই স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করছেন।

 

তৃতীয় ধাপে ভোট হবে আগামী রবিবার (২৮ নভেম্বর)। গত ২ নভেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ও পর দিন ছিল যাচাই-বাছাইয়ের দিন। ঋণ খেলাপী ও অন্যান্য কারণে বাদ পড়েছে ১০জন। তাদের মধ্যে মদাতী ইউনিয়নে ১জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, ১জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থী ও অন্যান্য ইউনিয়নে ৮জন সাধারণ সদস্য প্রার্থীর মনোনয়ন বিভিন্ন কারণে বাতিল হয়েছে।

 

তুষভান্ডার ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নুর ইসলাম আহমেদ। এখানে নৌকা না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজেদা বেগম। এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৫জন প্রার্থী রয়েছে। এ ছাড়া ৩টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে ১৩জন প্রার্থী রয়েছে এবং ৯ ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য রয়েছে ৪৮জন।

 

চলবলা ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মিজানুর রহমান মিজু। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম বসুনিয়া ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি নয়ন কুমার রায়। সব মিলে এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছে ৭জন। ৩টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে ১১জন এবং ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে প্রার্থী রয়েছে ৪১জন।

 

মদাতী ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আব্দুল কাদের। এ ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে নেমেছেন লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব। ৬জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ১জনের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় বর্তমান প্রার্থী রয়েছে ৫জন। ৩টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে প্রার্থী রয়েছে ১৩জন। এ ছাড়া ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে প্রার্থী রয়েছে ৩৭জন।

 

কাকিনা ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তাহির তাহু। এ ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে লড়ছেন যুবলীগের ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন। সবমিলে এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছে ৮জন। ৩টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে প্রার্থী রয়েছে ১৪জন এবং ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৪২জন প্রার্থী রয়েছে।

 

দলগ্রাম ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আতাউর রহমান ছোটন। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ছাত্রলীগের ইউনিয়ন আহবায়ক জিন্নাহ রহমান জয়। এ ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান রবীন্দ্র নাথ রায়সহ চেয়ারম্যান পদে ১৩জন প্রার্থী রয়েছে। ৩টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে ১৩জন এবং ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে সদস্য প্রার্থী রয়েছে ৪১জন।

 

গোড়ল ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মাহমুদুল ইসলাম। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরল আমীন, আওয়ামী লীগ সদস্য ও উমা শংকর রায়। চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী রয়েছে ৫জন। ৩টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে প্রার্থী রয়েছে ১০জন এবং ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৩৭জন প্রার্থী রয়েছে।

 

চন্দ্রপুর ইউনিয়ন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মাহাবুবুর রহমান। এ ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন চেয়েছিলেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জামাল হোসেন খোকন এবং জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি শফিয়ার রহমান জমিদার। বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমসহ চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছে ৫জন। ৩টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে প্রার্থী রয়েছে ১৪জন এবং ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৪০জন প্রার্থী রয়েছে।

 

ভোটমারী ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আহাদুল হোসেন চৌধুরী । এ ইউনিয়নে শামীমা আকতার নামে ১জন মহিলাসহ চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছে ৫জন। ৩টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে প্রার্থী রয়েছে ১৯জন এবং ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৩৯জন প্রার্থী রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।

অররবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আসাদুল ইসলাম (১৯) নামে কয়রার এক কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে। আমাদী জায়গীমহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদুলের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কলেজছাত্র আসাদুল। কিন্তু প্রেমিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজছাত্রের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানতাম। মেয়েটির সঙ্গে কয়েকবার দেখাও করেছেন তিনি। পরে ঐ মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আসাদুল তার পরিবারকে জানান। তার পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি মেয়েটি রাজি হয়নি। হয়তো সেই দুঃখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কয়রা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, কলেজছাত্রটি আলাদা ঘরে থাকতেন। সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তার সোজাসুজি রাখা ভিডিও কল চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অপর প্রান্তে থাকা কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কয়রার যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।