২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৬ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।বৃহস্পতিবার

কাজিপুরে নাটুয়াপাড়া রক্ষা বাঁধে ধস্ : শংকিত চরাঞ্চলের অর্ধলক্ষ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রোকনুজ্জামান রাসেল, কাজিপুর প্রতিনিধি ঃ

 

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় ১০ সেমি. পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ৫২ সে.মি. উপর দিয়ে বইছে। আর গত কয়েকদিন যাবৎ ক্রমাগত পানি বৃদ্ধির ফলে কাজিপুরের চরাঞ্চলের নানা স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন।

বুধবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এতে করে প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমির আমন ধান ও পাট পানিতে তলিয়ে গেছে।

এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় এরই মধ্যে চরাঞ্চলের নাটুয়ারপাড়া রক্ষা বাঁধে গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে ধস্ শুরু হয়েছে। ভাঙন শুরু হয়েছে খাসরাজবাড়ি ইউনিয়নের সানবান্দা এলাকায়। চরগিরিশ ইউনিয়নের চর ডগলাসে ও মনসুরনগর ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার সেতুর একপাশে ধস্ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নাটুয়ারপাড়া রক্ষাবাঁধে ধস্ দেখা দেয়ায় আতঙ্কে রয়েছে প্রায় পনেরটি গ্রামের অর্ধলক্ষ মানুষ।

ইতোমধ্যে ধস্ ঠেকাতে জনপ্রতিনিধিগণ স্থানীয়ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় এই মুহূর্তে ধস্ ঠেকাতে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। খবর পেয়ে গত মঙ্গলবার ও

বুধবার কাজিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সিরাজী ভাঙন এবং ধসে যাওয়া স্থানগুলো ঘুরে দেখেছেন। তিনি জানান, ধস ঠেকাতে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা যথারীতি চেষ্টাচালিয়ে যাচ্ছি। পাউবো’র সাথে কথা হয়েছে। তারাও দ্রুত কাজ শুরু করবে। বালির বস্তা ফেলে দুটো সেতু রক্ষার কাজও শুরু হয়েছে। খাসরাজবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম জানান, সানবান্দা এলাকায় প্রচন্ড ভাঙন শুরু হয়েছে। গত চারদিনে প্রায় বেশ কয়েকটি আবাদী জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।

এদিকে উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে বন্যায় প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন, পাটসহ অন্যান্য ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ হাসান সিদ্দিকী জানান, ভাঙন কবলিত মানুষের জন্যে সরকারি বরাদ্দ পেয়েছি। তালিকা করে বিতরণের কাজ চলমান রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হাবিবুর রহমান বলেন, বন্যার বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ও কবলিত হয়েছে। পি আই ও শাহা আলম মোল্লা বলেন, গত দুই দিন ধরে বন্যা কবলিত চর এলাকায় সরকারি ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি