২৩শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৮ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।মঙ্গলবার

কর্ণফুলীর ৪ ইউনিয়নে সরকার দলীয় মনোনয়ন পেতে একাধিক প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

শেখ আবদুল্লাহ

আনোয়ারা(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি ।

 

চট্টগ্রাম কর্ণফুলী উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে ঘিরে এখন সরগরম মাঠ-ঘাট ও চায়ের দোকান। আগামী ২৩ ডিসেম্বর এ উপজেলার ৪ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটার ও জনসাধারণকে আগাম জানান দিচ্ছেন। তবে ভোটের মাঠে শুধু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদেরই বেশি দেখা যাচ্ছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা অনেকটা নীরব।

চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পেতে সরকার দলীয় একাধিক প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ-লবিং শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন পেতে উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন থেকে ২১ জন প্রার্থীকে চেয়ারম্যান পদে লবিং করতে শোনা যায়। বাজার ছাড়িয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যানার ও ফেস্টুনে ভরে গেছে স্যোশাল মিডিয়াও। বইছে প্রার্থীদের নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ।

উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান, মহিলা মেম্বার ও মেম্বার পদপ্রার্থীদের মাঝেও চলছে আগাম প্রচারণা।

চতুর্থ ধাপে দেশের ৮৪০ ইউপিতে ভোট হবে জানিয়ে তপশীল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ করেছে। যাচাই বাছাই করে দলীয় প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।

সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যান পদে শিকলবাহা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারেন বর্তমান চেয়ারম্যান কর্ণফুলী উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম (গত বারের বিদ্রোহী), উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি এস এম ছালেহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সেলিম চৌধুরী, শিকলবাহা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম ফোরকান, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেকান্দর হোসেন রানা (সদ্য প্রয়াত বকুল চেয়ারম্যানের বড় ছেলে)।

চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন পরিষদে প্রার্থী হতে পারেন-বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী, কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আমজাদ হোসেন, কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নাজিম উদ্দীন হায়দার (গত বারের বিদ্রোহী), কর্ণফুলী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোহাম্মদ সোলায়মান তালুকদারসহ কয়েকজন।

জুলধা ইউনিয়ন পরিষদে সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারেন-জুলধা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রফিক আহমদ (গত বারের বিদ্রোহী), কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সাবেক চেয়ারম্যান হাজী মোহাম্মদ নুরুল হক, কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জুলধা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আমির আহমদ ও উপজেলা যুবলীগের উপ-মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মুসা।

বড়উঠান ইউনিয়নে প্রার্থী হতে পারেন বর্তমান চেয়ারম্যান কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদারুল আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হাজী রফিকউল্লাহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন খাঁন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোঃ আহমদ হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য মামুনুর রশিদ, বড়উঠান ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন চৌধুরী।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, কর্ণফুলী উপজেলাধীন চরলক্ষ্যা, জুলধা, বড়উঠান ও শিকলবাহায় নির্বাচন হলেও বাদ পড়েছে চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন। ইউনিয়নটিতে ৫ (পাঁচ) বছর মেয়াদ শেষ হবে ২০২২ সালের ২০শে ডিসেম্বর। যে কারণে মূলত নির্বাচন পিছিয়েছে।

কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ আবদুল শুক্কুর বলেন, ‘মামলা জনিত কারণে শপথ গ্রহণ পরে হওয়ায় চরপাথরঘাটার ইউনিয়নের মেয়াদ এখনো উত্তীর্ণ হয়নি।’

কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশ অনুযায়ী দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে। আশাকরি মনোনয়নের ক্ষেত্রে যারা দলের দুর্দিনে অবদান রেখেছেন, এমন ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে।’

এরমধ্যে এক প্রতিনিধি সভায় দক্ষিণ জেলা আ.লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, যারা বিদ্রোহী হবেন তাদের তো মনোনয়ন দেওয়া হবে না। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও দলের কোন পদ পদবিতে তাদের রাখা হবে না।’

 

বিদ্রোহীদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ। এই ব্যাপারে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান আজাদীকে জানান, গতবারের বিদ্রোহীদের কোনো নাম এবার আমরা কেন্দ্রে পাঠায়নি। বিদ্রোহী কেউ এবার মনোনয়ন পাবে না। কেন্দ্র বিদ্রোহীদের ব্যাপারে কঠোর। যদি বিদ্রোহীদের নাম পাঠাতে হয় তাহলে তার নামের পাশে মন্তব্য কলামে বিদ্রোহী লিখে দিতে বলেছেন।

 

উল্লেখ্য, চতুর্থ ধাপের ভোট হবে ৮৪০ ইউপিতে ২৩ ডিসেম্বর। কর্ণফুলীতে ৪ ইউনিয়ন ।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।