১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

করোনার কারণে ৮ মাস বন্ধ থাকার পর চালু হলো বেনাপোল এক্সপ্রেস”।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

নজরুল ইসলাম বিশেষ প্রতিনিধি ।

 

করোনা ভাইরাসের কারনে দীর্ঘ ৮ মাস বন্ধ থাকার পর সেবার মান কমিয়ে আবার বেনাপোল-ঢাকা রুটে চলাচল শুরু করলো ”বেনাপোল এক্সপ্রেস” যাত্রীবাহী টেনটি।

 

বৃহষ্পতিবার (০২ ডিসেম্বর) পুণরায় এ রুটে ট্রেনটির যাত্রা শুরু হলো।

 

গত ৫ এপ্রিল ২০২১করোনা ভাইরাসের কারনে ”বেনাপোল এক্সপ্রেস” ট্রেনটি বন্ধ হয়ে যায়। ৭৯৫ নম্বর বেনাপোল এক্সপ্রেস দুপুর ১২.৪৫ মিনিটে বেনাপোল থেকে ছেড়ে যাবে এবং ঢাকা কমলাপুর পৌঁছাবে ৮.৫০ মিনিটে।

 

যশোর অঞলের মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বেনাপোল এক্সপ্রেসটি উদ্ভোধন করেন। সেসময় থেকেই ইন্দোনেশিয়ার তৈরী ৮৮৬ আসন বিশিষ্ট বেনাপোল এক্সপ্রেস চলাচল করে আসছিল। ১২টি বগির মধ্যে কেবিনে ছিল ৪৮ আসন, এসি চেয়ার আসন ছিল ৭৮টি। বাকি ৭৬০টি নন এসিচেয়ার আসন ছিল।

কিন্তু বর্তমানে যে ট্রেন দিয়ে বেনাপোল এক্সপ্রেস পুণরায় চালু করা করা হয়েছে সেটায় যাত্রী সেবার মান সন্তোষজনক নয়। এখনকার ট্রেনটি ভারতের তৈরী এবং ট্রেনে কোন এসি বগি নেই। ৮টি বগিতে ৪৮টি কেবিন আসন আছে। বাকি ৭৪৫টি ননএসি চেয়ার আসন আছে। ভাড়া নির্ধারন করা হয়েছে ননএসি চেয়ার প্রতি আসন ৪৮৫ টাকা ও কেবিন প্রতি আসন ১১১৬ টাকা। পুণরায় চালু হওয়া বেনাপোল এক্সপ্রেসে এসি আসন না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করছেন যশোর সহ বেনাপোল বাসী।

 

ট্রেনের যাত্রী আজিজুল হক জানান, আমার ব্যবসায়ীক কাজে প্রতিমাসে ৪/৫ বার ঢাকা যেতে হয়। বেনাপোল এক্সপ্রেস চালু হওয়ার পর থেকে আমি ঢাকায় প্লেনে না যেয়ে ট্রেনে চলাচল শুরু করি। অনেকদিন পর আজ পুণরায় ট্রেনটি চালু হওয়ার পর ষ্টেশনে এসে এসি ট্রেন নাই শুনে অবাক হলাম।

তিনি বলেন, বেনাপোলে নানা শ্রেনীর মানুষকে চাকুরি করার সুবাদে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসতে হয়। কাস্টমস ও বন্দরের অনেক কর্মকর্তারা এসি ট্রেনে চলাচল করতো। এখন এসি ট্রেন না থাকলে আগের মতোই ভোগান্তি হবে বেনাপোল ঢাকা চলাচল কারী যাত্রীদের। এখন আবার আমার মতো যাত্রীদের ঢাকায় যেতে হলে যশোর থেকে এসি ট্রেনে উঠতে হবে অথবা বিমানে যেতে হবে। এতে আমরা খরচ বাড়ার সাথে সাথে নানা ভোগান্তির স্বীকার হবো।

 

বেনপোল ষ্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান জানান, করোনার ভাইরাসের কারনে বেনাপোল এক্সপ্রেসটি দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর আজ পুণরায় চালু হয়েছে। আগে এ রুটে যে বেনাপোল এক্সপ্রেসটি চলতো সেটা ইন্দোনেশিয়ার তৈরী। আর এখন যেটা চলবে সেটা ভারতের তৈরী। আগের ট্রেনে এসি আসন ছিল। আর এখন এসি কেবিন আছে কিন্ত্র এসি চেয়ার আসন নেই। বেনাপোল এক্সপ্রেসটি পূর্বের ন্যায় সপ্তাহে ছয় দিন চলবে। ট্রেনটি বেনাপোল থেকে দুপুর ১২.৪৫ মিনিটে ছেড়ে ঝিকরগাছা, যশোর, মোবারকগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, দর্শনা বিরতি, চুয়াডাঙ্গা, পুড়াহদ, ভেড়ামারা, ঈশ্বরদি হয়ে ঢাকায় ৮.৫০ মিনিটে যাবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।

অররবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আসাদুল ইসলাম (১৯) নামে কয়রার এক কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে। আমাদী জায়গীমহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদুলের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কলেজছাত্র আসাদুল। কিন্তু প্রেমিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজছাত্রের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানতাম। মেয়েটির সঙ্গে কয়েকবার দেখাও করেছেন তিনি। পরে ঐ মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আসাদুল তার পরিবারকে জানান। তার পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি মেয়েটি রাজি হয়নি। হয়তো সেই দুঃখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কয়রা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, কলেজছাত্রটি আলাদা ঘরে থাকতেন। সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তার সোজাসুজি রাখা ভিডিও কল চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অপর প্রান্তে থাকা কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কয়রার যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।