১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।রবিবার

কচুয়ায় অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলনের মহোৎসব, লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রভাবশালী একটি মহল।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মোঃ রিফাত পাটোয়ারী, চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

 

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা জুড়ে ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মিনি ড্রেজার দিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলন করে জমজমাট বাণিজ্য করে আসছে একটি মহল। এতে আশপাশের জমি ও সড়ক ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া কাছাকাছি থাকা কয়েকটি বসতঘরও হুমকির মধ্যে রয়েছে।

 

উপজেলার বিভিন্ন ফসলি জমি থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। প্রতিদিন প্রায় ৩ শতাধিক অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আবাদি জমি গর্ত করে বালু উত্তোলন করে আসছে প্রভাবশালী একটি মহল। এতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ওই প্রভাবশালী মহলটি।

 

এদের বারবার মাটি উত্তোলন না করার জন্য প্রশাসন থেকে নিষেধ করা হলেও কর্ণপাত করছে না বরং আবাদি জমিতে মাটি উত্তোলন করে বিশাল সুড়ঙ্গ করে ফেলছে তারা। সেই সঙ্গে আশপাশের বসতঘরও হুমকির মুখে পড়েছে। এই মুহূর্তে এদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে কচুয়ায় এক সময় আবাদি জমি খুঁজে পাওয়া যাবে না। মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে ফসল উৎপাদন। সেই সঙ্গে ওই এলাকায় দেখা দেবে চরম খাদ্য সংকট।

 

কচুয়া উপজেলায় ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা রয়েছে। এ উপজেলার সর্বত্র ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে অবাধে চলছে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন। কতিপয় ড্রেজার ব্যবসায়ী রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় এ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কচুয়া উপজেলায় প্রায় ৩ শতাধিক ড্রেজার মেশিন রয়েছে। আর এসব ড্রেজার দিয়ে প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় কৃষি আবাদি জমিতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলন করে কৃষিজমি ধ্বংস করে দিচ্ছে।

 

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় একটি প্রভাবশালী মহল উপজেলার সাচার,শুয়ারুল, আটোমোড়, বারৈয়ারা,রাগদৈল, বায়েক, ঘাগড়া বিল,বড়দৈল, শিলাস্থান,তেগুরিয়া,বিতারা,খলাগাঁও,মাঝিগাছা,সৈয়দপুর,নন্দনপুর,মালচোয়া,কাদিরখিল, বাতাপুকুরিয়া, দুর্গাপুর, চাংপুর, পালাখাল, আইনপুর, শংকরপুর, দোয়াটি,তিলকিয়া ভিটা,এনায়েতপুর,গুলাবাহার,সিংআড্ডা, নিশ্চিন্তপুর, মধুপুর, কাদলা,মনপুরা,তুলপাই,প্রসন্নকাপ, নয়াকান্দি,আশারকোটা,তেতৈয়া,নাহারা,উজানী,বরুচর,দারচর,খিড্ডা, আশ্রাফপুর, আমুজান, রহিমানগর , চাপাতলি, হোসেনপুর, কড়ইয়া, ডুমুরিয়া , বাসাবাড়িয়া, দরিয়াহয়াতপুর, কালচোঁ সহ কচুয়ার বিভিন্ন স্থানে অবাধে মাসের পর মাস মিনি ড্রেজার দিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন চলছে।

 

 

স্থানীয়রা জানান, কোনো অভিজ্ঞতা নেই, শুধুমাত্র ৫/৬ দিন ড্রেজারে কাজ করেছে এমন ব্যক্তিদেও এখন ৩/৪টি ড্রেজারের মালিক। অন্যদিকে পূর্বে প্রবাসী ও সিএনজি চালক,পিকআপ চালক কিংবা পূর্বে কোনো কাজকর্ম করতে দেখা যায়নি এমন লোকেরা ও ড্রেজার ক্রয় করে এখন লক্ষ লক্ষ টাকা মালিক হয়েছেন। নব্য এসব ড্রেজার ব্যবসায়ীদের দাপটে রীতিমতো দিশেহারা স্থানীয় সচেতন মানুষ। এদিকে নব্য এসব ড্রেজার মালিকদের হাত থেকে ভবিষ্যত প্রজন্মকে রক্ষা করতে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেছে এলাকাবাসী।

 

এব্যাপারে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত) মোমেনা আক্তার বলেন, ড্রেজারে অবৈধ বালু উত্তোলনের অনুমতি নেই। ড্রেজার দিয়ে কেউ বালু উত্তোলন করলে কোন অভিযোগ আসে আমরা তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে ড্রেজার উচ্ছেদ ও জরিমানা আদায় করছি। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি