২৩শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।বৃহস্পতিবার

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ফুল মিয়া: লাশ পেতে বাবা মায়ের আহাজারি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মাধবপুর প্রতিনিধি:হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার বহরা গ্রামের ফুল মিয়া ১৫ জুলাই ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন । তার মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর থেকে থামছে না ফুল মিয়ার বাবা মায়ের আহাজারি।

এদিকে নিহত ফুল মিয়ার পরিবারের সদস্যরা জানেন না কিভাবে লাশ দেশে আনতে হবে। এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বারের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তার বাবা। কিন্তু ছেলের লাশ দেশে আনা কোনো ব্যবস্থা করতে পারছেন না তারা। শেষ বারের মত ফুল মিয়ার নিথর দেহ দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন তার বাবা মা।

ফুল মিয়ার পরিবার সূত্রে জানা যায়, ফুল মিয়ার বাবা শিশু মিয়া একজন দিন মজুর। অভাব অনটনের সংসার তাদের। অভাবের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে ধার দেনা করে ছেলেকে ২০১১ সালে ওমান পাঠান তার বাবা। ছেলের পাঠানো টাকায় তাদের সংসার থেকে অভাব প্রায় দূর হতে চলছিল। মোটামুটি ভালই চলছিল তাদের সংসার। কিন্তু গত ১৫ জুলাই ওমানের সড়ক দুর্ঘটনায় ফুল মিয়া মারা যাওয়ার সাথে সাথে তার পরিবারের নেমে আসে দুঃখের ছায়া। বর্তমানে ফুল মিয়ার লাশ ওমানের হাসপাতালের হিম ঘরে রাখা হয়েছে বলে তার পরিবার থেকে জানানো হয় ।

নিহত ফুল মিয়ার বাবা শিশু মিয়া জানান, অনেক কষ্ট করে প্রিয় আদরের সন্তানকে ওমানে পাঠিয়ে ছিলাম। আমার ছেলে এভাবে বিদেশে মারা যাবে জানলে তাকে বিদেশে পাঠাতাম না । আমরা এখন শুধু আমার ছেলের লাশ চাই। আমি জানি না কিভাবে ওমান থেকে লাশ আনতে হয়। এই সামর্থ্য আমার নাই। সরকারের কাছে আকুল আবেদন আমার ছেলের লাশটা যেন তারা দেশে আনার ব্যবস্থা করে দেন।

এ ব্যাপারে বহরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান জানান, ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ফুল মিয়ার লাশ তাড়াতাড়ি ফেরত পেতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ওমান দূতাবাসে আবেদন করব। তাছাড়া আমাদের স্থানীয় সংসদ সদস্য বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী সহযোগিতা কামনা করেছি। আশা করি তাদের সহযোগিতায় ফুল মিয়ার লাশ তার মা বাবা তাড়াতাড়ি ফিরে পাবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি