১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।রবিবার

এসিড নিক্ষেপকারী প্রধান আসামি তারেক গ্রেফতার র‌্যাব-৭।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সুমনসেন চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।

 

 

র‌্যাব-৭ এর অভিযানে ফেনী জেলার পরশুরামের সাতকুচিয়ায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হাতে নির্যাতিতা গৃহবধূকে এসিড নিক্ষেপকারী এজাহারনামীয় প্রধান আসামি তারেক (২৪) আটক।

 

র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সমাজের বিভিন্ন অপরাধ এর উৎস উদ্ঘাটন, অপরাধীদের গ্রেফতারসহ আইন শৃংখলার সামগ্রিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। র‌্যাবের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ধর্ষক, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, ডাকাত, খুনি, বিপুল পরিমান অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, মাদক উদ্ধার, ছিনতাইকারী, অপহরণকারী, মানবপাচারকারী ও প্রতারকদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগনের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

 

পাঁচ বছর আগে ভিকটিমের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় পরশুরাম উপজেলার সাতকুচিয়া গ্রামের প্রবাসী এর সাথে। বিয়ের পর থেকে স্বামীর মা ও ভাই-বোনরা মিলে ভিকটিমকে যৌতুকের জন্য নানা নির্যাতন করতে থাকে। গত ০৭ আগস্ট ২০২১ রাতে ভিকটিমকে সাপে কাটে। সাপের বিষের যন্ত্রণায় ছটফট করলে সাপুড়ে এনে পুনরায় সাপ দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ভিকটিমকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা সমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সাপুড়ে এনে পুনরায় সাপ দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করায় ভিকটিম বাকপ্রতিবন্ধী হয়ে যায়। ভিকটিমের শারিরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে গত ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ইং তারিখে ঢাকা থেকে ভিকটিমের বাবার বাড়ি নিয়ে যায়।

 

 

ইতোপূর্বে ভিকটিমকে নির্যাতন করায় ভিকটিমের শশুর বাড়ীর লোকজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করলে তারা দায়েরকৃত মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছে এবং পূর্বের শত্রুতার জের ধরে গত ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ইং তারিখ অনুমান ১২.৩০ ঘটিকার সময় ভিকটিম কে এসিড নিক্ষেপ করে। এতে ভিকটিমের হাত ও মুখমন্ডল ঝলসে যায়। পরবর্তীতে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে ফেনী জেলার ফুলগাজী থানায় মামলা দায়ের করে (যার মামলা নং-০৩, তারিখ- ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ধারা- ২০০২ সালের এসিড অপরাধ দমন আইন এর ৫(ক)/৫(খ)/৭)। মামলা দায়ের পরপরই র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম অভিযান পরিচালনা করে দায়েরকৃত মামলার ০১ নং এজাহারনামীয় আসামী মোঃ তারেক (২৪), পিতা- মৃত হাবিবুল্লাহ, সাং- গোসাইপুর, থানা- ফুলগাজী, জেলা- ফেনীকে গ্রেফতার করা হয়।

 

 

গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে ফেনী জেলার ফুলগাজী থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি