১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।শনিবার

এসএমপির শ্রেষ্ঠ নায়েক সফি আহমেদ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মো: রেজাউল ইসলাম শাফি, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ

 

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) শ্রেষ্ঠ নায়েক হয়েছেন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক ব্যক্তিত্ব মো. সফি আহমেদ। সফি আহমদ কুলাউড়া উপজেলার পৌর এলাকার চাতলগাও এর বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত মোঃ ইদ্রিস আলীর ছেলে ।

 

লকডাউনে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা প্রদান, চিকিৎসা সহযোগিতা, করোনায় মৃত ব্যক্তিদের দাফন, প্লাজমা সংগ্রহ করে প্রদানসহ মানবিক পুলিশিং এর এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় তাকে বিশেষভাবে সম্মানিত করলো এসএমপি।

 

তাকে পুরস্কৃত করার কারণ হিসেবে এসএমপি জানায়- সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ এর মিডিয়া এন্ড কমিউনিটি সার্ভিস শাখায় কর্মরত নায়েক মো. সফি আহমদ, করোনা পরিস্থিতিতে গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে মানবিক কার্যক্রমের অংশীদার হয়ে অদ্যাবধি উদার মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন। তিনি এসএমপি কমিশনার মো. নিশারুল আরিফের অনুপ্রেরণায় করোনা মহামারীতে নিজ উদ্যোগে নিজস্ব ও আত্মীয় স্বজন এবং বন্ধু বান্ধবদের অর্থায়নে করোনা আক্রান্ত রোগীদের বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা, করোনা রোগীদের প্লাজমা সংগ্রহ করে প্রদান করা, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মৃত ব্যক্তিদের দাফন সম্পন্ন করা, করোনাকালীন সময়ে সাধারণ রোগীদের রক্তের প্রয়োজন হলে রক্ত সংগ্রহ করে দেওয়া, অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার সহ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, অসহায় দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং নগদ অর্থ প্রদান করে আসছেন। অদ্যাবধি প্রায় ৩ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন।

 

এছাড়া পবিত্র মাহে রমযান উপলক্ষেও রাস্তায় ছিন্নমূল মানুষের জন্য ইফতার ও সেহরী বিতরণ, বিভিন্ন এতিমখানায় সম্পূর্ন রমজান মাসে ইফতার ও সেহরির ব্যবস্থা করা এবং পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে সিলেট মহানগরীর পাশাপাশি কুলাউড়া উপজেলায় মানবিক টিমের মাধ্যমে ১০০০ পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।

 

তাছাড়া সফি আহমেদ বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষাথীদের মাঝে তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহসহ দরিদ্র অসহায় মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখার খরচ বহন, দরিদ্র মানুষের ঘর নির্মাণে সহায়তা ও দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য সহযোগিতা করে আসছেন।

 

এসবের পাশাপাশি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ পেইজ ও তার ব্যবহৃত ফেইসবুক আইডি- সফি আহমেদ এর মাধ্যমে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে এাণের সহায়তার জন্য তার মোবাইল- ০১৭১৪-৩৬৩৪৮৬ নাম্বার দিয়ে সাধারণ মানুষদের সাহায্য সহযোগিতা করে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন। যার মাধ্যমে তিনি অসহায় বেকার মানুষদের স্বাবলম্বি করার জন্য সেলাই মেশিন, ভ্যান গাড়ী ও রিক্সার ব্যবস্থা, শারীরিক প্রতিবন্ধিদের হুইল চেয়ার, স্টিক প্রদান ও দৈনন্দিন প্রায় ১৫/২০টি পরিবারকে সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

মানবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি দাপ্তরিক কার্যক্রমে তিনি এসএমপি’র মিডিয়া এন্ড কমিউনিটি সার্ভিস শাখায় কর্মরত থেকে এসএমপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পোগ্রাম, ভালো কাজের তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করেন। এছাড়া সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ পেইজে ও ইউটিউব চ্যানেলে এসএমপি’র কার্যক্রম, বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন, ভিডিওবার্তা প্রচার প্রচারণা করে আসছেন।

 

উল্লেখিত কার্যক্রম সততা ও দক্ষতার সাথে পালন করে যাওয়ায় এসএমপি তাকে বিশেষভাবে সম্মানিত করেছে বলে জানিয়েছেন- সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার বি এম আশরাফ উল্যাহ তাহের।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি