১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

আমতলীতে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ হওয়া পরিবার পেল প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

 

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি।

“আশ্রয়নের অধিকার, মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর উপহার” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণনগন গ্রামে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিণীর হাতে শহীদ হওয়া বীরমুক্তিযোদ্ধা নগ্রেন্দ্র নাথ ধুপির অসহায় পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে একটি আশ্রয়নের ঘর উপহার দেয়া হয়েছে।

 

আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টায় উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামে গিয়ে মাটি কেঁটে ওই ঘরের নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম আবদুল্লাহ বিন রশিদ। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মজিবুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ নাজমুল ইসলাম, কুকুয়া ইউপি চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন আহমেদ মাসুম তালুকদার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মফিজুল ইসলাম, চাওড়া ইউপি আ’লীগ সভাপতি আহুরুজ্জামান আলমাছ খান, ইউপি সদস্য মোসাঃ তাসলিমা বেগম, শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধা নগ্রেন্দ্র নাথ ধুপির ভাই সুধীর চন্দ্র ধুপি, রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক হায়াতুজ্জামান মিরাজ, সাংবাদিক ক্লাবের সভাপতি দেওয়ান মোস্তফা কবির প্রমুখ।

 

মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিরার পক্ষ থেকে এই ঘরটি শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধা নগ্রেন্দ্র নাথ ধুপির অসহায় পরিবারকে উপহার দেওয়া হয়। শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পুত্র রাধেশ্যামের নামে আমতলী উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ২ লক্ষ ৪১ হাজার টাকা ব্যয়ে দুই কক্ষ বিশিষ্ট রান্নাঘর কাম টয়লেটের একটি সেমি পাকা ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

 

পুত্র রাধেশ্যাম চন্দ্র ধুপি বলেন, আমার বাবা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের অসহায় পরিবারের কথা চিন্তা করে এই ঘরটি উপহার দিয়েছেন। তিনি ভগবানের কাছে প্রার্থনা করে বলেন, ভগবান যেন আমাদের মত অসহায় পরিবারের জন্য শেখ হাসিনা দীর্ঘায়ূ কামনা করেন।

 

উল্লেখ্য মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বরগুনা জেলার ফুলঝুড়ি মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে পাক হানাদার বাহিনীর আকর্ষিক আক্রমনে আমতলী উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের মৃত্যু গোপাল চন্দ্র ধুপির পুত্র বীরমুক্তিযোদ্ধা নগ্রেন্দ্র নাথ ধুপি শহীদ হন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।

অররবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আসাদুল ইসলাম (১৯) নামে কয়রার এক কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে। আমাদী জায়গীমহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদুলের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কলেজছাত্র আসাদুল। কিন্তু প্রেমিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজছাত্রের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানতাম। মেয়েটির সঙ্গে কয়েকবার দেখাও করেছেন তিনি। পরে ঐ মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আসাদুল তার পরিবারকে জানান। তার পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি মেয়েটি রাজি হয়নি। হয়তো সেই দুঃখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কয়রা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, কলেজছাত্রটি আলাদা ঘরে থাকতেন। সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তার সোজাসুজি রাখা ভিডিও কল চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অপর প্রান্তে থাকা কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কয়রার যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।