১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

আমতলীতে রহস্যজনক কারনে নিখোঁজ এক স্বাস্থ্যকর্মী!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

মাইনুল ইসলাম রাজু

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি।

বরগুনার আমতলীতে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত জান্নাতুল ফেরদৌসি পিংকি (১৮) নামে এক স্বাস্থ্যকর্মী রহস্যজনক কারনে নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজ স্বাস্থ্যকর্মী আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের সোহরাব হাওলাদারের মেয়ে। নিখোঁজের ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে আমতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

 

সাধারণ ডায়েরী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার সকাল ৮টার দিকে আমতলী বেলভিউ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ‘ল্যাব সহকারী’ পদে কর্মরত জান্নাতুল ফেরদৌসি পিংকি প্রতিদিনের ন্যায় তার কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে ওই দিন রাত ৯টার দিকে রুটিম মোতাবেক আর বাড়ী ফিরে যাননি। বাড়ি না ফেরায় মেয়ের খোঁজ-খবর নেয়ার চেষ্টা করেন স্বাস্থ্যকর্মী পিংকির বাবা। প্রথমে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল দিয়ে দেখেন তা বন্ধ রয়েছে। এরপর তার কর্মস্থল বেলভিউ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকে জানানো হয় ওই দিন বিকেল ৪টার দিকে পিংকি অফিস থেকে বের হয়ে গেছেন। এরপর পরিবারের সবাই মিলে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজ-খবর নিয়ে পিংকির কোন সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে আমতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন।

 

নিখোঁজ স্বাস্থ্যকর্মী পিংকির বাবা সোহরাব হাওলাদার মুঠোফোনে বলেন, গত রবিবার সকাল ৮ টার দিকে প্রতিদিনের ন্যায় তার কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয় পিংকি। কিন্তু রুটিন মোতাবেক রাত ৯টার দিকে বাড়ি না ফেরায় মেয়ের খোঁজ নিতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল দিয়ে দেখি তা বন্ধ। এরপর তার কর্মস্থল বেলভিউ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যোগাযোগ করি। তারা জানায় ওই দিন বিকাল ৪টার দিকে সে তার কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন। সকল আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজ-খবর নিয়ে পিংকির কোন সন্ধান না পেয়ে ওই দিন রাতেই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছি। অদ্য পর্যন্ত আমার মেয়ের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

 

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মিজানুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিখোঁজ পিংকির মুঠোফোনের অবস্থান জেনে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা অব্যাহত আছে। এছাড়া নিখোঁজের সম্ভাব্য কারণ অনুসন্ধানেরও চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।

অররবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আসাদুল ইসলাম (১৯) নামে কয়রার এক কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে। আমাদী জায়গীমহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদুলের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কলেজছাত্র আসাদুল। কিন্তু প্রেমিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজছাত্রের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানতাম। মেয়েটির সঙ্গে কয়েকবার দেখাও করেছেন তিনি। পরে ঐ মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আসাদুল তার পরিবারকে জানান। তার পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি মেয়েটি রাজি হয়নি। হয়তো সেই দুঃখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কয়রা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, কলেজছাত্রটি আলাদা ঘরে থাকতেন। সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তার সোজাসুজি রাখা ভিডিও কল চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অপর প্রান্তে থাকা কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কয়রার যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।