১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।মঙ্গলবার

আদিতমারী থানা পুলিশ শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মামলা নেয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

  • লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

লালমনিরহাটে গৃহপরিচারিকা সেই শিশুর ওপর অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় গত ৩দিনেও মামলা করতে পারেনি ভুক্তভোগী পরিবার। আইনি জটিলতার কথা বলে আদিতমারী থানা পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। সারা শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন নিয়ে গত রোববার (২৯ আগস্ট) থেকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে মেয়েটি। হাসপাতালের তৃতীয় তলায় সার্জারী ওয়ার্ডের বিছানায় শরীরে ব্যথা ও জ্বালা-যন্ত্রণা নিয়ে এখনও কাতরাচ্ছে শিশুটি। এদিকে শিশুটিকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। তারা শিশুটির পরিবারকে আইনি সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

 

শিশু হাসিনা বেগমের নানি আমেনা বেগম ও মা রহিমা বেগম জানান, গত ২দিন আদিতমারী থানায় গেলেও পুলিশ তাদের মামলা নেয়নি। সোমবার (৩০ আগস্ট) আদিতমারী থানা পুলিশ তাদের জানিয়েছিল মামলায় ভুল আছে, ঠিক করে নিয়ে আসতে হবে। পরে মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) আদিতমারী থানায় গেলে পুলিশ ঘটনাস্থল ঢাকায় গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেয়।

 

তারা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, তাদের ভাত খাওয়ার টাকা নেই, ঢাকায় যাবেন কীভাবে। তারা দাবি করেন, গরিব দেখে থানা তাদের মামলা নেয়নি।

 

আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুর ইসলাম বলেন, আইনি জটিলতার কারণে এখানে মামলা নেওয়া সম্ভব নয়। ভুক্তভোগী পরিবারকে ঘটনাস্থল ঢাকায় মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

নরসিংদী জেলার পুলিশ পরিদর্শক আজহার আলী সুমন ও তার স্ত্রী ডেইজির বিরুদ্ধে তাদের ঢাকার বাসায় শিশু গৃহপরিচারিকা হাসিনা বেগমের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন অনলাইন ও পত্র-পত্রিকায় একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সাহায্যের হাত বাড়ায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

 

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) সহসমন্বয়কারী (তদন্ত) অনির্বাণ সাহা জানান, প্রতিবেদনটি পড়ে শিশুটির নানির সঙ্গে মোবাইল ফোনে তার কথা হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করতে চাইলে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) সব ধরনের সহযোগিতা করবে। মেয়েটির চিকিৎসার বিষয়েও তিনি সাহায্যের আশ্বাস দেন।

 

লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের মহিষতলী গ্রামের দিনমজুর হাসান আলী ও রহিমা দম্পতির ২মেয়ের মধ্যে বড় হাসিনা বেগম। বছর খানেক আগে একই গ্রামের পুলিশ কর্মকর্তা আজহার আলী সুমন বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে হাসিনাকে গৃহপরিচারিকা হিসেবে ঢাকায় তার বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর থেকেই হাসিনার ওপর নির্যাতন চালাতেন সুমন ও তার স্ত্রী।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি