১৮ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।বৃহস্পতিবার

অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফলে অসঙ্গতি, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষার ফল গত ২০ জুলাই প্রকাশ করা হয়েছে। এবার গড় পাসের হার ৭২ শতাংশ। সোমবার (২৬ জুলাই) এ সমন্বিত ফলাফল (CGPA) প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সারাদেশের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা।

তাদের অভিযোগ, সশরীরে পরীক্ষায় অংশ নিলেও ফলাফলে অনেককে অনুপস্থিত দেখিয়ে ফেল করানো হয়েছে। দায়সারাভাবে খাতা মূল্যায়ন করায় ভালো পরীক্ষা দিয়েও ফেল করেছেন অনেকে। ফল নিয়ে অসন্তোষে থাকা শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন। আন্দোলনের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংঘটিত হচ্ছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, করোনার মধ্যে প্রথমবারের মতো অনলাইনে ভাইভা নেওয়া হয়েছে। এখানে কাউকে অনুপস্থিত দেখাতে পারে। তবে এটা সংশোধনের সুযোগ আছে। করোনার অজুহাতে অনেকেই পাস চাচ্ছেন। এটা তো সম্ভব না।

চট্টগ্রামের ওমরগণি এমইএস কলেজ থেকে অনার্স চতুর্থ বর্ষে পরীক্ষা দিয়েছিলেন মো. ফরহাদ। রেজাল্ট শিটে দেখা গেছে তিনি ‘ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ে ফেল করেছেন। এই পরীক্ষার্থীর দাবি কোনোভাবেই তার ফেল করার কথা না।

একই কলেজের আফরিন সুলতানা জানান, তিনি ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড’ বিষয়ে ফেল করেছেন। অথচ তিনি এ বিষয়ে খুব ভাল পরীক্ষা দিয়েছেন।

চাঁদপুরের পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন উম্মে হাবিবা। সবগুলো বিষয়ে ভালো জিপিএ পেলেও ‘রিসার্চ মেথোডোলজি’ বিষয়ে ফেল করেছেন তিনি।

সব পরীক্ষায় অংশ নিলেও ‘ওয়েস্টার্ন লিটারেরি থিওরি’ বিষয়ের পরীক্ষায় অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে মুহাম্মদ আলী আনছারকে। তিনি গভ. সিটি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।

এদিকে, কোনো কোনো শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন গণহারে ফেল করানোর। তেজগাঁও কলেজ থেকে পরীক্ষা অংশ নেন শাহাদাত হোসাইন। ফলাফলে দেখা গেছে, ‘অর্গানাইজেশনাল বিহেভিয়ার’ বিষয়ে তাকে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। শাহাদাত অভিযোগ করেন, তার কলেজে অনেক শিক্ষার্থীকে গণহারে এই বিষয়ে এফ গ্রেড দেওয়া হয়েছে। খাতা দেখায় অসঙ্গতির কারণেই এমন ফলাফল বলে দাবি তার।

টাঙ্গাইলের সখিপুর রেসিডেন্সিয়াল মহিলা কলেজের পরীক্ষার্থী সোনিয়া আকতার রিমা জানান, তাকেও ব্যাংক ম্যানেজমেন্টে ফেল দেখানো হয়েছে। অথচ খুব ভালো পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি। বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ইমরান আলী। ফলাফলে তাকে ‘পপুলেশন অ্যান্ড হেলথ ইকোনমিকস্’ বিষয়ে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। ইমরান বলেন, আমার শিক্ষাজীবনে অকৃতকার্য হওয়ার রেকর্ড নাই। খাতা দেখায় অসঙ্গতি না থাকলে পাস করতাম।

শিক্ষার্থীরা জানান, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষা শুরু হয়। করোনার কারণে দফায় দফায় পরিবর্তন করা হয় পরীক্ষাসূচির। এরপর চলতি বছরের জুনে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে এই পরীক্ষা শেষ হয়। শিক্ষার্থীরা বলছেন, জুনে মৌখিক পরীক্ষা শেষ করার পর তাড়াহুড়া করে ফল প্রকাশের কারণেই নানা অসঙ্গতির সৃষ্টি হয়েছে।

ফেল করা ছাত্র-ছাত্রীরা বলছেন, পরীক্ষা শুরুর পর করোনা হানা দেওয়ায় শুধু চতুর্থ বর্ষেই প্রায় আড়াই বছর কেটে যাচ্ছে। এরমধ্যে খাতা দেখায় অসঙ্গতির ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা ফেল করলে আরেক বছর পিছিয়ে যাবে। এছাড়া পুনঃমূল্যায়নের আবেদন, ফরম পূরণ ছাড়াও বিভিন্ন খাতে অনেক টাকাও খরচ হবে তাদের। সবমিলে দুর্ভোগের শেষ থাকবে না অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের। তাই পুরো ফল খতিয়ে দেখার আবেদন করেছেন তারা।

জানতে চাইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘কলেজের শিক্ষকরাই খাতা মূল্যায়ন করেন। শুধু ফল প্রকাশের দায়িত্ব থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের। ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রোগ্রামিংয়ে কোথাও ভুল হতে পারে, যেটা খুব সামান্য। এমনটি হলে সংশোধন করা হবে। শিক্ষার্থীরা যদি মনে করেন যথাযথ ফল পাননি, সেক্ষেত্রে তার পুনঃমূল্যায়নের আবেদনের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অনেকে করোনার দোহাই দিয়ে পাস চাইছেন, তা সম্ভব নয়। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কেউ ফেল করবে কেউ পাস করবে এটাই স্বাভাবিক।’

উপাচার্য বলেন, ‘কেউ পরীক্ষায় অংশ নিলে তার তো রেকর্ড রয়েছেই। তাছাড়া মৌখিক পরীক্ষা জুম প্লাটফর্মে নেওয়া হয়েছে। তাই কে কে পরীক্ষা দিয়েছেন সেই রেকর্ড আমাদের কাছে আছে। পরীক্ষায় উপস্থিত থেকেও কাউকে অনুপস্থিত দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পেলে ফল সংশোধন করা হবে।’

ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ২৯ জুলাই থেকে

২০১৯ সালের অনার্স ৪র্থ বর্ষ পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলের উত্তরপত্র পুন:নিরীক্ষণের জন্য আগামী ২৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা থেকে ২১ আগস্ট (শনিবার) রাত ১২টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে।

২২ আগস্ট (রোববার) বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া যাবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে (www.nu.ac.bd) এ বিষয়ে তথ্য জানা যাবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।