২৩শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৮ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।মঙ্গলবার

অধ্যক্ষের সংবাদ সম্মেলন এডহক কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, হুমকি ও শিক্ষকদের হয়রানির অভিযোগ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

 

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি।

বরগুনার আমতলী উপজেলার নারী শিক্ষার স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান বকুলনেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ মোঃ ফোরকান মিয়া ওই কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি গোলাম সরোয়ার (টুকু) কর্তৃক কলেজ পরিচালনায় বাঁধা, দায়িত্ব পালনে হুমকি, অবৈধভাবে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ দাবি ও কর্মরত শিক্ষকদের হয়রানির অভিযোগে সাংবাদ সম্মেলন করেন।

 

বৃহস্পতিবার সকাল ১০ ঘটিকায় আমতলী সাংবাদিক ক্লাবে অনুষ্ঠিত সাংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ মোঃ ফোরকান মিয়া ওই কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি গোলাম সরোয়ার (টুকু)ও বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, কলেজের এডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছিল গত ১৫/০৮/২০২১ খ্রি. তারিখ। আমি ০৭/০৮/২০২১খ্রি. তারিখ এডহক কমিটি গঠনের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেছি। আবেদনের সময় তৎকালীন সভাপতি রেজিউলিউশনের মাধমে বিধি মোতাবেক এডহক কমিটি গঠন করে সভাপতি ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য মনোনয়নের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠনের ফরমেট পূরণ করে সকল কাগজপত্রাদি প্রেরণ করি। সেই ফরমেট এর উপর ভিত্তি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ১৯/০৯/২০২১ খ্রি. তারিখ এডহক কমিটির পত্র ইস্যু করে। কমিটিতে শুধুমাত্র প্রস্তাবিত সভাপতির স্থলে বর্তমান সভাপতি জনাব গোলাম সরোয়ারকে (টুকু) সভাপতি মনোনয়ন করে পত্র প্রদান করা হয়। আমি সভাপতি মহোদয়কে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরমেট অনুযায়ী এডহক কমিটি অনুমোদনের জন্য বিধিমোতাবেক প্রেরিত দাতা সদস্য হিসেবে জনাব মোঃ মতিয়ার রহমান, মেয়র, আমতলী পৌরসভা, বরগুনা ও শিক্ষক প্রতিনিধি জনাব মোঃ কবির হোসেনকে নির্বাচন করে প্রেরণ করার বিষয়টি অবহিত করি। কিন্তু তিনি উক্ত কমিটির সদস্যদের বারবার অনৈতিক প্রস্তাব দিলে তাহারা কোনভাবে অনৈতিক প্রস্তাব মেনে না নেওয়ায় তাদেরকে বাদ দিয়ে ভিসি মহোদয়ের প্রভাবের কথা বলে নতুন সদস্য নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

 

গত ১৯/০৯/২০২১ খ্রি. তারিখে এডহক কমিটি অনুমোদন হয়ে আসার পরে সভাপতি মহোদয় ২২/০৯/২০২১খ্রি. তারিখ আমাকে মুঠোফোনে কলেজের কোন কাগজপত্রে স্বাক্ষর না দেওয়ার জন্য বা কোন কাজকর্ম না করার জন্য মৌখিকভাবে নির্দেশ প্রদান করেন। আমি সভাপতিকে সম্মান প্রর্দশন করে বিধিবর্হিভ‚ত হলেও তার মৌখিক নির্দেশনা অনুযায়ী কলেজে উপস্থিত হয়ে আমার হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে ২৯/০৯/২০২১ খ্রি. তারিখ পর্যন্ত অফিস করি। তিনি পুনঃরায় ৩০/০৯/২০২১খ্রি. তারিখ আমাকে কলেজ সংশ্লিষ্ট সকল কাজকর্ম করার জন্য মৌখিকভাবে অনুমতি প্রদান করেন। আমি তার নির্দেশনা অনুযায়ী অদ্য পর্যন্ত কলেজের কাজকর্ম করে আসছি। এই সময়ের মধ্যে সভাপতি মহোদয় তার বরগুনা এবং বরিশালের বাসায় আমাকে ডেকে পাঠায়। উভয় ডাকেই আমি তার সাথে বিভিন্ন সময় বরিশাল ও বরগুনার বাসাতে সাক্ষাৎ করি। এসময় তিনি আমাকে বলেন আপনি স্বপদে বহাল থাকতে চাইলে তাকে ১৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে। তিনি তখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মহোদয়ের বরাত দিয়ে ওই টাকা থেকে ৫লক্ষ টাকা ভিসি মহোদয়কে দিতে হবে বলে জানায়। দাবীকৃত টাকা দিতে ব্যর্থ হইলে ২০ লক্ষ টাকা নিয়ে অন্য কাউকে দায়িত্ব দিবে বলে জানিয়ে বিষয়টি ভেবে দেখতে বলেন।

 

২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের টাকা ফেরৎ দেওয়ার বিষয়ে দাতা সদস্য ও বিদ্যোৎসাহী সদস্যের সাথে সভা আহবানের বিষয়ে আলাপ করলেও তারা সভাপতি মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করেও এডহক কমিটির সভা করতে ব্যর্থ হন। মহামারী করোনার কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ফরম পূরণের টাকা ফেরৎ পেলেও আমতলী বকুলনেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজের টাকা ফেরৎ দেওয়া সম্ভব হয় নাই। গত সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রি. মাসের শিক্ষক- কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বরাদ্দ আসলে বেতন সীটে প্রতি স্বাক্ষরের জন্য সভাপতি মহোদয়কে একাধিকবার অনুরোধ করা সত্তে¡ও তিনি বেতন ওই সীটে স্বাক্ষর করেননি। যার কারণে অদ্য পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা উত্তোলন করতে পারেনি। এরই ধারাবাহিকতায় অক্টোবর, ২০২১ খ্রি. মাসের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পাসের বিষয়ে সভাপতি পূর্বের সিদ্ধান্তে অটুট থাকেন।

 

তিনি অন্যায় লাভের আশায় ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে তার কথিত মতে ২০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে আমাকে অধ্যক্ষ পদ হইতে সরিয়ে তার খালাতো ভাইয়ের স্ত্রী অত্র কলেজের সহকারী অধ্যাপক (পৌরনীতি) ফেরদৌসি আক্তারকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়ার হীন মানসে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তার প্রমাণ গত ০৬/১১/২০২১ খ্রিঃ তারিখ এডহক কমিটির সভাপতি মহোদয় কলেজে আকস্মিক উপস্থিত হয়ে সকল শিক্ষক-কর্মচারী, দাতা সদস্য, বিদ্যোৎসাহী সদস্য, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও সহ-সভাপতির সম্মুখে আমাকে পদচ্যুত করে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ করবেন মর্মে হুমকি প্রদান করেন। তার এই হুমকি দেয়ার কারণে উপস্থিত সকল নেতৃবৃন্দ ও কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।৬ মাস মেয়াদের বর্তমান এডহক কমিটি অদ্য পর্যন্ত ৩ মাস ০৮ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও এডহক কমিটির কোন সভা অনুষ্ঠিত হয়নি।

 

অধ্যক্ষ মোঃ ফোরকান মিয়া তিনি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে আমতলীর একমাত্র নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বকুলনেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সকল ষড়যন্ত্রকারীদের হাত থেকে প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা এবং উন্নতির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

এ বিষয়ে এডহক কমিটির সভাপতি গোলাম সরোয়ার (টুকু) মুঠোফোনে বলেন, অধ্যক্ষ হিসাবে ফোরকান মিয়ার নিয়োগ বৈধ নয় বিধায় আমি তার বিলে স্বাক্ষর করি নাই। আমার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা বানোয়াট ষড়যন্ত্রমূলক। এ অভিযোগের কোন ভিত্তি নাই বলেও তিনি দাবী করেন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।